শেরপুরে জামায়াত প্রার্থী বাদলের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন
সংগৃহীত
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলহাজ নুরুজ্জামান বাদলের (৫১) জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। প্রার্থীর মৃত্যুতে আসনটির নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত (বাতিল) ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় শেরপুর শহরের পৌর পার্ক মাঠে মরহুমের প্রথম জানাজা এবং বিকেল ৫টায় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পোড়াগর এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানাজায় অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা এ টি এম মাসুম, ড. সামিউল হক ফারুকী, শেরপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমানসহ জামায়াতের জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মী, বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ।
নিহত নুরুজ্জামান বাদলের ছোট ভাই আলহাজ মাসুদুর রহমান জানান, পবিত্র শবে বরাতের নামাজ শেষে বাসায় যান নুরুজ্জামান বাদল। রাতের খাবার খেয়ে আবার নামাজের প্রস্তুতি নেয়ার সময় শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রাত আড়াইটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে প্রার্থীর মৃত্যুতে আসনটির নির্বাচন বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তরফদার মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আরপিও-এর বিধান অনুযায়ী নির্বাচন বাতিল ছাড়া আর কোনো বিকল্প রাস্তা নেই। গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে। আবার নতুন করে তফসিল ঘোষণা করা হবে। তবে ১২ তারিখের আগে আর নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।’
আলহাজ নুরুজ্জামান বাদল শেরপুর-৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে শেরপুর জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আসনটির জমজমাট নির্বাচনী আমেজে ভাটা পড়েছে।
মরহুমের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘বাদল আমার কাছের ছোট ভাই ছিল। বিগত দিনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চার দলীয় জোটের আন্দোলন-সংগ্রামে সে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। আমরা দুইজন মিলে পরামর্শ করে আন্দোলন করেছি। তার অকাল প্রয়াণে আমরা শোকাহত।’