নেতৃত্ব কি ক্ষমতা নাকি আমানত? রাসুল (সা.)-এর যুগের অনন্য দৃষ্টান্ত
ছবি: সংগৃহীত।
আধুনিক বিশ্বে যখন নেতৃত্ব ও ক্ষমতা নিয়ে চতুর্দিকে অস্থিরতা বিদ্যমান, তখন শান্তিময় সমাজ গঠনে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত নেতৃত্ব নির্বাচন পদ্ধতি এক অনুকরণীয় আদর্শ। দেড় হাজার বছর আগে তিনি মদিনা রাষ্ট্রে এমন এক ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন, যেখানে পদমর্যাদার চেয়ে যোগ্যতাকে এবং ব্যক্তিগত ইচ্ছার চেয়ে জনকল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া হতো।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে এবং পরবর্তীতে খোলাফায়ে রাশেদীনের সময় নেতা নির্বাচনের মূল ভিত্তিগুলো ছিল নিম্নরূপ:
১. পরামর্শ বা ‘শূরা’ ভিত্তিক ব্যবস্থা ইসলামী শাসনব্যবস্থায় নেতা একক সিদ্ধান্তে কোনো বড় পদক্ষেপ নিতেন না। যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত 'শূরা' বা পরামর্শ সভার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হতো। এটি বর্তমানের সংসদীয় ব্যবস্থার চেয়েও বেশি স্বচ্ছ ছিল, কারণ সেখানে সত্য ও ন্যায়কে গুরুত্ব দেওয়া হতো।
২. পদপ্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা রাসুল (সা.)-এর যুগে কেউ যদি নিজে থেকে নেতৃত্ব বা উচ্চ পদের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতেন বা প্রার্থনা করতেন, তাকে সাধারণত সেই দায়িত্ব দেওয়া হতো না। নবীজি (সা.) মনে করতেন, পদের লোভ মানুষের ইনসাফ করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
৩. যোগ্যতাই ছিল মূল মাপকাঠি নেতা নির্বাচনে বংশ, বর্ণ বা আভিজাত্যের চেয়ে মানুষের 'তাকওয়া' (খোদাভীতি) এবং সংশ্লিষ্ট কাজের দক্ষতাকে প্রাধান্য দেওয়া হতো। এ কারণেই দেখা যায়, কোনো যুদ্ধে একজন সাধারণ সাহাবীকে সেনাপতি করা হয়েছে, যেখানে তার অধীনে বড় বড় সাহাবীরা যুদ্ধ করেছেন।
৪. জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ‘বাইয়াত’ জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল রাসুল (সা.)-এর যুগে ছিল না। বরং জনগণ স্বেচ্ছায় নেতার হাতে হাত রেখে আনুগত্যের শপথ (বাইয়াত) নিতেন। এটি ছিল নেতার প্রতি জনগণের আস্থা ও সমর্থনের প্রতীক।
৫. সেবার মানসিকতা নবীজি (সা.)-এর আদর্শ ছিল— "জাতির নেতা হলেন তাদের সেবক।" অর্থাৎ নেতৃত্ব কোনো ভোগের বস্তু নয়, বরং এটি একটি কঠিন আমানত যা কিয়ামতের দিন জবাবদিহিতার কারণ হবে।