দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করে উচ্ছ্বসিত বাবর
ফাইল ছবি
দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)সকালে নিজ উপজেলা মদন কোর্ট ভবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন তিনি। এসময় তার সঙ্গে স্ত্রী তাহমিমা জামান শ্রাবণী ও কন্যাও ভোট প্রদান করেন।
ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত বাবর বলেন, আমি যে ভোট দিতে পারছি বা নির্বাচন করতে পারছি- এর চেয়ে বড় রহমত আর কী হতে পারে? এজন্য মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া জানাই। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমার পরিবারের সদস্য ও সন্তানরা এখানে এসে ভোট দিচ্ছে। এটি তাদের প্রথম ভোট।
তিনি বলেন, এখানে অনেক তরুণই প্রথমবার ভোট দিচ্ছে। এটি একটি বিরাট আশার ব্যাপার। আমাদের এলাকা আগেও শান্তিপূর্ণ ছিল, এখনো শান্তিপূর্ণ আছে। আশা করি, বাংলাদেশের সমস্ত এলাকায় শান্তিপূর্ণ ও সুন্দরভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে বাবর বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার খুব শক্ত অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু যারা ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাচ্ছেন, তারা নিঃসন্দেহে খারাপ কাজ করছেন- সে যে দলেরই হোক। আমরা অন্তত আমাদের দলের পক্ষ থেকে কাউকে প্রশ্রয় দেব না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি দল মাঠে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে; আমাদের এখানেও দুই-একজন ধরা পড়েছে। ওই দলটির এত টাকা আপনারা দেখছেন এবং জানাচ্ছেন।
ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের লক্ষণ তো আছেই। তবে আমি সকল ভোটারকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাই। সমস্ত প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যারা আছেন, সবাই সতর্ক থাকবেন যাতে কেউ ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করতে না পারে।
এসময় বাবরের স্ত্রী তাহমিমা জামান শ্রাবণী বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। প্রতিটি দিন ছিল বিভীষিকাময়। এবারের নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে। বাবর সাহেব নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং ভোট দিতে পেরেছেন- এটাই অনেক বড়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে পরিবারসহ বাবরের উচ্ছ্বাসে কেন্দ্রজুড়ে সৃষ্টি হয় ভিন্নমাত্রার আবেগঘন পরিবেশ।