এই বিজয় জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়েছে : সালাউদ্দিন বাবু
সংগ্রহীত ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের ২৭৫টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। তিনি প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর চেয়ে ৬৪ হাজার ৬৯৩ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
বিজয়ের পর ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু সমর্থক ও নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই বিজয় জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। তিনি তার দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাভারবাসী ও এলাকার উন্নয়নে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা-১৯ আসেনর (সাভার-আশুলিয়া) ২৭৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু ধানের শীষ প্রতিকে ১ লাখ ৯০ হাজার ৯৭৬ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে তার প্রধান প্রতিপক্ষ জামায়াত সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) প্রার্থী দিলশানা পারুল শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ২৮৩ ভোট।
ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ ও শাপলা কলি প্রতীকের মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৬৯৩। শতাংশের হিসাবে এই ব্যবধান উল্লেখযোগ্য, যা আসনটিতে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটব্যাংকের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে ২৭৫টি কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীক অধিকাংশ কেন্দ্রে এগিয়ে থেকে আসনটি নিজেদের দখলে নিতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে শাপলা কলি প্রতীক ৪৫টি কেন্দ্রে জয় পেলেও সামগ্রিক ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। এ আসনে মোট কত ভোট পড়েছে এবং আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা সম্পর্কে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
সাভার উপজেলার শিমুলিয়া, ধামসোনা, ইয়ারপুর, আশুলিয়া, বিরুলিয়া, পাথালিয়া ও সাভার ইউনিয়ন, সাভার পৌরসভা ও সাভার সেনানিবাস নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৯ আসন।
এ আসনের ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৯ জন, ৩ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৫ জন নারী এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১৩ জন। এছাড়াও পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধিত ৫ হাজার ৫১৫ জন ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ৭৪১ জন পুরুষ এবং নারী ৭৭৪ জন।
ঢাকা-১৯ আসনে এবার ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করেছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু (ধানের শীষ), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী (ছাতা), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দিলশানা পারুল (শাপলা কলি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ ফারুক খান (হাতপাখা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. ইসরাফিল হোসেন সাভারী (আম), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. কামরুল (হারিকেন), জাতীয় পার্টির মো. বাহাদুর ইসলাম (লাঙ্গল) ও গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) শেখ শওকত হোসেন (ট্রাক)।
তাদের মধ্যে মূল লড়াই হয়েছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর সঙ্গে জামায়াত সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুলের।