রমজানে ঘুমের সমস্যা: কেন হয়, সমাধান কী?
ছবি: সংগৃহীত
রমজান এলেই দৈনন্দিন রুটিনে বড় পরিবর্তন আসে। সাহরি খাওয়া, রাতের ইবাদত, তারাবিহ আর ভোরে ওঠার কারণে ভেঙে পড়ে ঘুমের সময়সূচি। ফলে অনেকেই অনিদ্রা, সারাদিন ঝিমুনি বা অতিরিক্ত ক্লান্তিতে ভোগেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজানে ঘুমের সমস্যার পেছনে রয়েছে কিছু নির্দিষ্ট কারণ।
রমজানে কেন ঘুমের সমস্যা হয়? কী কী কারণ দায়ী? এর সমাধানই বা কী?
সময়সূচির হঠাৎ পরিবর্তন
সারা বছর নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমালেও রমজানে সাহরির জন্য গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠতে হয়। আবার তারাবিহ শেষে ঘুমাতে যেতেও অনেকের দেরি হয়। এই হঠাৎ পরিবর্তনে শরীরের স্বাভাবিক ‘বডি ক্লক’ বা জৈবঘড়ি বিঘ্নিত হয়, যার ফল ঘুমের সমস্যা।
ইফতারের ভারী খাবার
ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, ঝাল বা তেলযুক্ত খাবার খাওয়া হয়। এসব খাবার হজমে সময় নেয়। ফলে বুকজ্বালা, গ্যাস্ট্রিক ও অস্বস্তি তৈরি হয়, যা রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।
ক্যাফেইন ও মিষ্টি পানীয়
ইফতার বা রাতের খাবারের পর চা, কফি কিংবা চিনিযুক্ত পানীয় পান করা অনেকের অভ্যাস। এসব পানীয় স্নায়ুকে উত্তেজিত করে। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়।
রাত জাগা ও অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম
তারাবিহ শেষে মোবাইল ফোন বা টিভির সামনে দীর্ঘ সময় কাটান অনেকে। এই অভ্যাস ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। এতে ঘুম গভীর হয় না।
দিনে অতিরিক্ত ঘুম
রাতে কম ঘুমের ক্ষতিপূরণ করতে দিনে দীর্ঘ সময় ঘুমালে রাতে আবার ঘুম আসতে চায় না। এতে ঘুমের চক্র আরও এলোমেলো হয়ে যায়।
রমজানে ঘুমের সমস্যার সমাধান করতে করণীয়
ঘুমের রুটিন ঠিক করুন
রমজানের শুরু থেকেই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে রাতে ১–২ ঘণ্টা আগে ঘুমিয়ে ভোরে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
ইফতার ও রাতের খাবার হালকা রাখুন
ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মসলা এড়িয়ে চলুন। ফল, সবজি, প্রোটিন ও পর্যাপ্ত পানি ঘুমে সহায়ক।
ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন
ইফতারের পর চা-কফি সীমিত রাখুন। চাইলে হারবাল চা বা গরম দুধ বেছে নিতে পারেন।
স্ক্রিন টাইম কমান
ঘুমানোর অন্তত ৩০–৬০ মিনিট আগে মোবাইল ও টিভি ব্যবহার বন্ধ করুন।
দিনের ঘুম নিয়ন্ত্রণে রাখুন
দিনে খুব প্রয়োজন হলে ২০–৩০ মিনিটের বেশি না ঘুমানোই ভালো।
ইবাদত ও বিশ্রামের ভারসাম্য
তারাবিহ ও অন্যান্য ইবাদতের পাশাপাশি শরীরের বিশ্রামও জরুরি—এটা মনে রাখা প্রয়োজন।
রমজানে ঘুমের সমস্যা খুবই সাধারণ, কিন্তু অবহেলা করলে এটি শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি বাড়ায়। সঠিক রুটিন ও সচেতন খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে পারলে রমজান হতে পারে আরও শান্ত, সুস্থ ও কর্মক্ষম।