সক্ষমতা হারিয়ে ধুঁকছে বেসরকারি খাত

সক্ষমতা হারিয়ে ধুঁকছে বেসরকারি খাত

সংগৃহীত ছবি

দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত বর্তমানে কার্যত রুগ্ণ। গত কয়েক বছরের সামষ্টিক অর্থনীতির অস্থিরতা, উচ্চ সুদহার, তীব্র জ্বালানিসংকট এবং ডলারের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে গত দেড় বছরের অস্থির সময়ে শিল্পের প্রত্যাশিত বিকাশ না হওয়ায় দেশে নতুন বিনিয়োগ হয়নি বললেই চলে। এমন এক ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফেরাতে এবং স্থবির অর্থনীতিকে টেনে তুলতে নতুন সরকারের নীতির দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন উদ্যোক্তারা।

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, সামষ্টিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের দ্রুত আস্থায় নিতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।

রেকর্ড নিচে ঋণের প্রবৃদ্ধি : দেশের জিডিপিতে বেসরকারি খাতের অবদান ৭৮ থেকে ৮৬ শতাংশ। আর কর্মসংস্থানের প্রায় ৯৫ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র  ৬.১ শতাংশে, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। উচ্চ সুদহারের (১৬-১৭ শতাংশ) কারণে ঋণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
 
চ্যালেঞ্জের মুখে নতুন সরকার : উদ্যোক্তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতি চাঙ্গা করা নতুন রাজনৈতিক সরকারের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণ (৩৫.৭৩ শতাংশ), বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরে জিডিপি অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ২২.৪৮ শতাংশে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানে।
 
কিভাবে সক্ষমতা হারিয়েছে বেসরকারি খাত : ব্যবসায়ীরা বলছেন, সক্ষমতা হারানোর কারণগুলো স্পষ্ট ও বহুমুখী। প্রথমত, উচ্চ সুদহার (১৬-১৭ শতাংশ) ঋণ গ্রহণকে অসম্ভব করে তুলেছে। ফলে তাঁরা নতুন যন্ত্রপাতি কিনতে বা উৎপাদন সম্প্রসারণ করতে পারছেন না।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘অপরিবর্তিত পলিসি রেটের কারণে ব্যবসায়ীরা এখন ১৬-১৭ শতাংশ সুদে ঋণ নিচ্ছেন, যা নতুন বিনিয়োগকে নিরুৎসাহ করছে।’ ফলে অনেক কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকও ব্যবহার হচ্ছে না, যা লোকসানের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, জ্বালানির সংকট। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, গ্যাসের সংকটের কারণে বেসরকারি খাতের উৎপাদনশীলতা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে। গ্যাসের দাম বাড়ানোয় স্থানীয় বাজার ও রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বিঘ্ন ঘটছে।

তৃতীয়ত, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি (১২২ টাকা ছাড়িয়ে) কাঁচামাল আমদানি ব্যয় বাড়িয়েছে। ফলে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে এবং স্থানীয় উৎপাদন অলাভজনক হয়ে পড়েছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্বীকার করেছেন, বেসরকারি খাত মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমিয়েছে, ফলে ঋণগ্রহণও কমেছে।

চতুর্থত, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদাবাজি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আমাদের রক্তে মিশে গেছে। এটি বন্ধ করতে না পারলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে না। ব্যবসা করা অসম্ভব হয়ে পড়লে আমরা বন্ধ করে চলে যেতে বাধ্য হব।’ এতে উদ্যোক্তাদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।

পঞ্চমত, ব্যাংক খাতের অস্থিরতা, মার্জার আতঙ্ক ও খেলাপি ঋণের রেকর্ড (৩৫.৭৩ শতাংশ) ব্যাংকগুলোকে ঋণ দিতে অনিচ্ছুক করে তুলেছে, যা বেসরকারি খাতের তারল্য সংকটকে আরো গভীর করেছে। এই সব মিলিয়ে বেসরকারি খাত ধুঁকছে। অর্থাৎ সংগ্রাম করছে টিকে থাকার জন্য—উৎপাদন কমিয়ে দিয়ে, শ্রমিক ছাঁটাই করে এবং নতুন প্রকল্প স্থগিত রেখে।

আইএমএফের প্রতিবেদন অনুসারে, এই অস্থিরতায় বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) ৬১.৫৩ শতাংশ কমেছে। এই সব মিলিয়ে বেসরকারি খাত ধুঁকছে, অর্থাৎ সংগ্রাম করছে টিকে থাকার জন্য। উৎপাদন কমিয়ে, শ্রমিক ছাঁটাই করে এবং নতুন প্রকল্প স্থগিত রেখে অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে টিকে আছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের প্রভাব : ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বেসরকারি খাত মারাত্মক চাপে পড়েছিল। বিজিএমইএর সর্বশেষ তথ্য অনুসারে সাভার, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে ৩৫৩টি কারখানা বন্ধ হয়েছে, যাতে এক লাখ ১৯ হাজার ৮৪২ জন শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। শিল্প খাতে এই সংকট উদ্বেগজনক। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান বাবু বলেন, ‘শিল্প খাত বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত দেড় বছরে আরো ভালো করার সুযোগ ছিল, কিন্তু নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যোগাযোগের ঘাটতি ছিল। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করতে চিঠি দিয়েও সাড়া পাইনি। চীন-ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রেক্ষাপটে আমরা সুবিধা পেতে পারতাম, কিন্তু সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে বেসরকারি খাত মারাত্মক চাপে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি ফজলুল হক। তিনি বলেন, ‘বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশে নেমে এসেছে, সুদহার দ্বিগুণ হয়েছে এবং ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠনে ধাক্কা খেয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে, কর্মসংস্থান কমেছে। ব্যাংকিং সংস্কার প্রয়োজনীয় ছিল, কিন্তু প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ১৬ শতাংশ সুদে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব নয়। আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং মব সংস্কৃতি বন্ধ না হলে স্বস্তি ফিরবে না। বেসরকারি খাত মানে শুধু বড় গ্রুপ নয়, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ দরকার। জ্বালানি সরবরাহ, আস্থা পুনর্গঠন এবং এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রস্তুতি জরুরি।’

জানতে চাইলে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি ও ইভিন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও মব সংস্কৃতির বিস্তারে শিল্প খাত চাপে পড়ে। জনগণ ও ব্যবসায়ী কেউই কার্যকরভাবে কথা বলার সুযোগ পাননি। একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের আগমন ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। ব্যবসায়ীরা সম্মান ও অংশীদারি চান। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই সুযোগ তৈরি হয়নি। তবে নতুন সরকার ব্যবসায়ী সমাজকে আস্থায় নিয়ে আলোচনায় বসে বাস্তবসম্মত নীতি গ্রহণ করবে বলে আশা করি।’

নতুন সরকারের কাছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন, ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা এবং নীতিগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)। সংগঠনের সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী বলেন, ‘টেকসই প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ জন্য ব্যাবসায়িক ব্যয় কমানো ও নীতিগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।’

দেশের অন্যতম পাবলিক-প্রাইভেট ডায়ালগ প্ল্যাটফর্ম ‘বিল্ড’ মনে করে, নতুন সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, টেকসই বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় এবং ব্যাংকিং তারল্য উন্নয়ন ছাড়া আস্থা ফিরবে না। বিল্ড বলছে, ‘কস্ট অব ডুইং বিজনেস’ কমাতে না পারলে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন। এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জে বাণিজ্য সহজীকরণ, শুল্ক যৌক্তিকীকরণ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা জরুরি।

বিল্ড অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) জন্য সুনির্দিষ্ট সহায়তা দাবি করেছে। এই খাতকে ‘অর্থনীতির মেরুদণ্ড’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। বড় গ্রুপ টিকে থাকলেও ক্ষুদ্ররা অর্থাভাবে ব্যবসা বন্ধ করছে। লাইসেন্সিং সহজতর এবং জামানতবিহীন অর্থায়ন নিশ্চিত করা দরকার।

নতুন সরকারের আশ্বাস : সরকারের পক্ষ থেকে আশার বাণী শুনিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি কঠিন সময় পার করছে। সূচকগুলো দারিদ্র্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ হ্রাস ও কর্মসংস্থান কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারের কর্মসূচির আলোকে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয় এবং সুফল জনগণ পায়।’ তিনি জানান, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সরকারের ঘোষিত কর্মসূচির আলোকে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘দেড় দশকে শিল্পের বিকাশ হয়নি, বিনিয়োগ শূন্যের কোঠায় নেমেছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিবছর ২০ থেকে ২২ লাখ কর্মক্ষম মানুষ আসছে, তাদের জন্য বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।’

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বন্ধ কারখানা পুনরায় সচল করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এতে উৎপাদন বাড়বে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হবে।’

পরিকল্পনা কমিশনের প্রক্ষেপণ অনুসারে, ২০২৬ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ হতে পারে, কিন্তু কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ যেমন—মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগ স্থবিরতা অব্যাহত থাকবে। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ অনুসারে, বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা করতে কর ব্যবস্থার সংস্কার, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং আর্থিক খাতের সুশাসন দরকার।

অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ফিন্যানশিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মামুন রশীদ বলেন, ‘ব্যক্তি খাতের বিকাশে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শ্রমিকদের অক্লান্ত শ্রম, অনুকূল আর্থিক সহায়তা, নীতি-পরিবেশ বিশেষ করে সরকারে থাকা রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরাট অবদান রয়েছে। তাই তাদের সঙ্গে নিয়ে এগোতে হবে নতুন সরকারকে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের দৈন্যদশায় যে কাজগুলো অবিলম্বে করা উচিত তা হলো ব্যাংকঋণের সুদের হার কমিয়ে এনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার সামান্য কিছু কমিয়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আর শিল্পের কাঁচামাল আমদানি সহজীকরণ এবং শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দেওয়া। সেই সঙ্গে প্রয়োজন একটি যুক্তিশীল কর প্রশাসন আর দক্ষ বন্দর ব্যবস্থাপনা।’

উদ্যোক্তারা বলছেন, নতুন সরকারের সঙ্গে সংলাপে স্থবিরতা কাটবে এবং অর্থনীতি গতিশীল হবে। তা না হলে দারিদ্র্য ও বেকারত্বের চাপ আরো বাড়বে।

বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) বলেন, ‘নতুন সরকার দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে—এমন প্রত্যাশা ব্যবসায়ীসমাজের। শিল্প ও বাণিজ্যের স্বার্থে ঋণের সুদহার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। শুধু আইএমএফের পরামর্শ অনুসরণ করলে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হবে। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে শিল্প উৎপাদন বাড়ানো এবং দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া জরুরি। উৎপাদন সচল রাখতে হলে যেকোনো মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদন ও কর্মসংস্থান না বাড়লে মূল্যস্ফীতি কমবে না; বরং বেকারত্ব বাড়লে সংকট আরো গভীর হবে।’