বগুড়ায় মশার কামড়ে অতিষ্ঠ পৌরবাসী
প্রতিকি ছবি
বগুড়ায় মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পৌরবাসী। দিন দিন মশার উপদ্রব বেড়েই চলেছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে এ উপদ্রব আরও বৃদ্ধি পায়। বাসাবাড়ি, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ ও অফিস-আদালত—সব জায়গায়ই মশার দাপট। দিন-রাত কয়েল জ্বালিয়েও, মশারি টাঙিয়েও মিলছে না রেহাই। এমন পরিস্থিতিতে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় অনেককে দিনের বেলাতেও মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে দেখা যায়।
বগুড়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মশা নিধনের জন্য সব এলাকায় সমানভাবে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত মশক নিধনের ওষুধও ছিটানো হচ্ছে।
পৌরবাসীর অভিযোগ, আবহাওয়ার পরিবর্তন, জমে থাকা পানি এবং শহরের অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে মশার সংখ্যা বেড়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ মাঝে মধ্যে ওষুধ ছিটালেও তাতে কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
জানা গেছে, বগুড়া পৌরসভায় মশা নিধনে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার তুলনায় কার্যক্রম তেমন দৃশ্যমান নয়। বিশেষ করে বর্ধিত এলাকাগুলোতে মশক নিধনে তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায় না বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে মশক নিধনের ওষুধ কেনার জন্য ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বছরে পৌরসভায় প্রায় ১৫০ লিটার মশার ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানোর জন্য ২৪টি ফগার মেশিন রয়েছে। মশক নিধন কার্যক্রমে প্রতি ওয়ার্ডে ২ লিটার করে ওষুধ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওষুধ প্রয়োগের জন্য ওয়ার্ডপ্রতি ২০০ লিটার ডিজেল ও ২৫ লিটার অকটেন বরাদ্দ রয়েছে। এ কাজে প্রতি ওয়ার্ডে তিনজন করে কর্মচারী দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি এসব বরাদ্দ ও উপকরণের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে পৌরসভা।
বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, গত দুই সপ্তাহে মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে, মশার কয়েল বা ব্যাট—কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছাড়া অধিকাংশ এলাকায় ওষুধ ছিটানোর দৃশ্য দেখা যায় না। অনেক এলাকায় বছরে মাত্র এক বা দুইবার ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।
পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, মশা নিধনে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হয়। শীতকালে মশা কম থাকায় নভেম্বর থেকে ওষুধ প্রয়োগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। দু-এক দিনের মধ্যেই তা আবার শুরু করা হবে। পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কারের জন্য প্রতি ওয়ার্ডে ১০ কেজি ব্লিচিং পাউডার ও ৫ কেজি ডিটারজেন্ট পাউডার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
পৌর প্রশাসক ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপপরিচালক রাজিয়া সুলতানা বলেন, মশা নিধনে সব এলাকায় সমানভাবে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পৌরসভা কাজ করছে।