রোজা রেখে শিশুর জন্য খাবার চিবিয়ে দেওয়া যাবে?

রোজা রেখে শিশুর জন্য খাবার চিবিয়ে দেওয়া যাবে?

ছবি: সংগৃহীত

প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষের জন্য রোজা রাখা ফরজ। রোজা রাখার জন্য সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী সহবাস ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকতে হয়। এই সময়ে পানাহার করলে বা কোনো কিছুর স্বাদ নিলে রোজা ভেঙে যায়।

রোজাদার ব্যক্তি যদি শিশুর জন্য খাবার চিবিয়ে দেন, তাহলে বিধানটি কিছুটা ভিন্ন। এক্ষেত্রে মূল নিয়ম হলো— যথাসম্ভব খাবার চিবিয়ে না দেওয়ার চেষ্টা করা এবং ভিন্ন কোনো পন্থায় এর সমাধানের চেষ্টা করা। রোজা নেই এমন ব্যক্তি বা বয়সে কিছুটা বড় এমন শিশুদের মাধ্যমে চিবিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা। কারণ, রোজা রেখে বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া খাবার চিবানো মাকরূহ।

তবে একান্তই যদি রোজা রেখে শিশুদের খাবার চিবিয়ে দিতে হয় তাহলে সতর্ক থাকতে হবে যেন চাবানোর সময় খাবারের কোনো অংশ বা খাবারের স্বাদ গলায় চলে না যায়। কারণ, গলায় চলে গেলে রোজা ভেঙ্গে যায়। 

ইবরাহীম নাখায়ী (রহ.) বলেন, কোনো মহিলা তার সন্তানের জন্যে রোজা অবস্থায় খাদ্য চিবাতে সমস্যা নেই; যদি খাদ্য গলায় চলে না যায়। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা : ৯৩৮৫)  

যেসব কারণ রোজা ভেঙে যায়

১. ভুলে খাওয়া বা পান করার পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে আবার ইচ্ছাকৃতভাবে খাওয়া বা পান করা। 

২ বিড়ি-সিগারেট বা হুঁকা সেবন করা। 

৩. কাঁচা চাল, আটার খামির বা একত্রে অনেক লবণ খাওয়া।

৪. এমন কোনো বস্তু খাওয়া, যা সাধরণত খাওয়া হয় না। যেমন- কাঠ, লোহা, কাগজ, পাথর, মাটি, কয়লা ইত্যাদি।

৫. পাথর, কাদামাটি, কঙ্কর, তুলা-সুতা, তৃণলতা, খড়কুটো ও কাগজ গিলে ফেলা। (

৬. নিজের থুতু হাতে নিয়ে গিলে ফেললে।

৭. ভুলে স্ত্রী সম্ভোগের পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে— আবার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস সম্পর্ক করা। 

৮. কানে বা নাকের ছিদ্র দিয়ে তরল ওষুধ দেওয়া। 

৯ দাঁত দিয়ে রক্ত বের হলে যদি তা থুতুর চেয়ে পরিমাণে বেশি হয় এবং কণ্ঠনালিতে চলে যায়। 

১০. মুখে পান দিয়ে ঘুমিয়ে যাওয়া এবং এ অবস্থায় সুবহে সাদিক করা। 

১১. হস্তমৈথুন করা। 

১২. রোজা স্মরণ থাকা অবস্থায় কুলি কিংবা নাকে পানি দেওয়ার সময় কণ্ঠনালিতে পানি চলে যাওয়া।

১৩. কাউকে জোর-জবদস্তি করে পানাহার করানো। 

১৪. রাত মনে করে সুবহে সাদিকের পর সেহরি খাওয়া।

১৫. ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা বা বমি আসার পর তা গিলে ফেলা

১৬ষোল. সূর্যাস্ত হয়ে গেছে মনে করে ভুলে দিনে ইফতার করা।

১৭. যদি কেউ রাত ধারণা করে স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হয়ে যায়, অতঃপর সুবহে সাদিকের কথা জানতে পেরে তৎক্ষণাৎ সহবাস থেকে বিরত হয়ে যায়। 

১৮. বৃষ্টি বা বরফের টুকরো খাদ্যানালির ভেতরে চলে গেলে রোজা ভেঙে যায়।