ইরানের ‘তেলের সাম্রাজ্যে’ মার্কিন হামলা, বিশ্ববাজারে নতুন শঙ্কা
ফাইল ছবি
ইরানের ‘তেলের সাম্রাজ্য’ হিসেবে খ্যাত খার্গ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। এই দ্বীপ থেকে ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশ হয়।
হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষক এড হার্স আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘ট্রাম্প বলেছেন তিনি দ্বীপের তেল অবকাঠামো এড়িয়ে গেছেন। কিন্তু এটি অত্যন্ত ছোট একটি দ্বীপ। কিছু খুব ছোট সামরিক স্থাপনা না থাকলে আমি কল্পনাও করতে পারছি না যে তেল রপ্তানির ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন যদি এটি স্থায়ীভাবে ইরানের তেল রপ্তানির সক্ষমতা নষ্ট করে দেয় এবং ইরাক ও কুয়েতও বন্ধ থাকে, আর এই যুদ্ধ সপ্তাহ বা মাস ধরে চলে, তাহলে দাম আরও বাড়তে থাকবে বলে আশা করা যায়।’
হার্স সতর্ক করেছেন, ‘এটা সত্যিই এশিয়ার অর্থনীতিগুলোকে আঘাত করবে, যারা অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পণ্যের বিশাল আমদানিকারক।’
প্রসঙ্গত, পারস্য উপসাগরের এই ছোট দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। মাত্র ৮ কিলোমিটার লম্বা ও ৪-৫ কিলোমিটার চওড়া এই দ্বীপে আবুজার, ফুরুজান ও দুরুদ — তিনটি বড় অফশোর তেলক্ষেত্র থেকে পাইপলাইনে তেল আসে। প্রতি বছর প্রায় ৯৫ কোটি ব্যারেল তেল এখান থেকে মূলত এশিয়ার বাজারে, বিশেষ করে চীনে রপ্তানি হয়।
ইরান-ইরাক যুদ্ধে ১৯৮০-র দশকে এই দ্বীপে ভয়াবহ বোমা হামলা হয়েছিল। সেবার ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পরে আবার গড়ে তুলেছিল ইরান। এবারের হামলায় কতটা ক্ষতি হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তেলের বাজারে তার প্রভাব হবে দীর্ঘমেয়াদী।