চট্টগ্রামে পর্যটনকেন্দ্রে উপচেপড়া ভীড়

চট্টগ্রামে পর্যটনকেন্দ্রে  উপচেপড়া ভীড়

সংগৃহীত ছবি

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের পর্যটন স্পটগুলোতে উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শহরের বাসিন্দারা ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে নিতে পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রে ভীড় করছেন। পাশাপাশি অনেকে গ্রামের বাড়ি থেকে ঈদ উৎসব শেষে নগরে ফিরে সন্তানদের নিয়ে অবসর কাটাতে সমুদ্র সৈকত, চিড়িয়াখানা ও দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী ভীড় করছেন। পাশর্^বর্তী আনোয়ারার পারকি সৈকতেও স্থানীয় পর্যটকরা দলে দলে বেড়াতে যাচ্ছেন। এছাড়াও নগরীর ফয়’স লেক কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্কের এখন পর্যটকদের লক্ষনীয় ভীড় দেখা গেছে। বিশেষ করে সেখানকার সী ওয়ার্ল্ড, নানা ধরণের রাইড, ওয়াটার পার্ক, বেইজ ক্যাম্পে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক সময় কাটাতে যাচ্ছেন।

ফয়’স লেক কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্কের ডেপুটি ম্যানেজার (মার্কেটিং) বিশ্বজিৎ ঘোষ জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে পার্কের রাইডগুলো নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। হৃদে ভ্রমণের জন্য বেশকিছু ইঞ্জিনচালিত নৌকা যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও প্রয়োজনীয় আনুসাঙ্গিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন দুপুর থেকে পার্ক খুলে দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম ও বাইরে থেকে পর্যটকরা এখানে আসছেন।

এদিকে নগরীর আউটার রিং রোড, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, ডিসি পার্ক, বাটাইফ্লাই পার্ক, নেভাল রোড, সিআরবিতেও শত শত বিনোদনপ্রিয় মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছেন। নগরীর বাইরে সীতাকুণ্ডের  গুলিয়াখালি সৈকত চন্দ্রনাথ পাহাড়, ইকোপার্ক, মিরসরাইয়ের নাপিত্যাছড়া ঝর্না, খৈয়াছড়া ঝর্নায়ও দূর দূরান্তের পর্যটকরা ছুটে আসছেন। এসব পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও ঈদ ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, প্রতি ঈদে চিড়িয়াখানায় বাড়তি দর্শনার্থী আসে। এসময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অভিবাবকরা সন্তানদের এখানে বেড়াতে নিয়ে আসেন। এবার ঈদের দিন বিকেলের পর থেকেই চিড়িয়াখানা খুলে দেওয়া হয়। ঈদ পরবর্তী এক সপ্তাহে এখানে লাখের কাছাকাছি দর্শনার্থী আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক জানান, ঈদে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পতেঙ্গা সৈকতে ঈদের সময় ব্যাপক লোকসমাগম হওয়ায় সেখানে বাড়তি নজরদারি ছিলো। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পর্যটকরা নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের স্থানে বেড়াতে পারছেন।