একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমানের মৃত্যু
মাহবুবা রহমান
বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর গায়িকা এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
মাহবুবা রহমান ছিলেন পঞ্চাশ ও সত্তর দশকের রেডিও এবং চলচ্চিত্রের কালজয়ী গানের একজন প্রতিভাবান শিল্পী। মূলত পল্লিগীতি এবং আধুনিক গানের শিল্পী হিসেবে তিনি দেশের সঙ্গীতজগতে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৪৭ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিও, ঢাকা কেন্দ্র থেকে তাঁর প্রথম গান প্রচারিত হয়।
মাহবুবা রহমানের প্রথম বিয়ে হয় ১৯৫০ সালে আবুল হাসনাতের সঙ্গে, যদিও পরিবার তা মেনে নেয়নি এবং পরে তাঁদের ছাড়াছাড়ি হয়। এই ঘরে জন্ম নেয় মারুফ ও বাবন নামে দুই সন্তান; মারুফ মারা গেছেন, ছোট ছেলে বাবন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক।
পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালে খ্যাতিমান চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব, অভিনেতা ও সঙ্গীতজ্ঞ খান আতাউর রহমানের সঙ্গে মাহবুবা রহমানের পরিচয় হয় এবং পরিণয় ঘটে। এ সংসারে জন্ম নেয় তাদের দুই কন্যা ও এক ছেলে, যার মধ্যে রুমানা ইসলাম বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী।
বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ সমর দাসের সুরে তিনি গেয়েছিলেন ‘মনের বনে দোলা লাগে’ গানটি। এছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে রয়েছে-
‘নিরালা রাতের প্রথম প্রহরে’ (কখনো আসেনি, সুর: খান আতাউর রহমান, গীতিকার: জহির রায়হান)
‘তোমাকে ভালোবেসে অবশেষে কী পেলাম’
‘পর জাগো হুয়া সাভেরা’
‘আসিয়া’
‘এ দেশ তোমার আমার’
‘যে নদী মরুপথে’
‘সূর্যস্নান’
‘সোনার কাজল’
‘রাজা সন্ত্রাসী’
‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’
‘সাত ভাই চম্পা’
তাঁর কণ্ঠ অনেক চলচ্চিত্রে নেপথ্য শিল্পী হিসেবে ছড়িয়ে রয়েছে, যা বাংলা চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।
মাহবুবা রহমানের মৃত্যুতে দেশের সঙ্গীতপ্রেমীরা শোকাহত এবং তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।