কেরানীগঞ্জের অগ্নিকাণ্ডে কারখানার মালিকসহ তিনজনের নামে হত্যা মামলা, একজন কারাগারে

কেরানীগঞ্জের অগ্নিকাণ্ডে কারখানার মালিকসহ তিনজনের নামে হত্যা মামলা, একজন কারাগারে

সংগ্রহীত ছবি

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ‘মেসার্স এসার গ্যাস প্রো ফ্যাক্টরি’ নামের একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় হত্যা মামলা করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক জুয়েল রানা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলায় কারখানাটির মালিকসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে আরো পাঁচ থেকে সাতজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মো. ইমান উল্লাহ ওরফে মাস্তানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

গতকাল ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে ইমানের ১০ দিনের রিমান্ডের বিষয়ে শুনানির জন্য আজ সোমবার দিন ধার্য করা হয়েছে।

মামলায় কারখানাটির মালিক মো. আকরাম উল্লাহ আকরাম, আহনাফ আকিফ আকরাম ও মো. ইমান উল্লাহ ওরফে মাস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলীর আমবাগিচা এলাকার একটি গলিতে মেসার্স এসার গ্যাস প্রো ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

এই ঘটনায় ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে নিহত ছয়জনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করেন স্বজনরা। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

পরিচয় শনাক্ত হওয়া তিনজন হলেন মীম আক্তার (১৭), শাহীনুর বেগম (৩৫) ও মঞ্জু বেগম (৪৯)। তিনজনই কারখানাটির শ্রমিক ছিলেন। মীমের গ্রামের বাড়ি বরিশালের মুলাদী উপজেলায়, শাহীনুরের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় আর মঞ্জুর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকা থেকে ইমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়।

এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম ইমানের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। আসামি সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে কোনো অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না রেখে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের দিয়ে গোপনে কারখানা চালু করে তা পরিচালনা করেন। আসামি এই ঘটনার হোতা। তাঁর নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহায়তায় অবৈধভাবে লুকিয়ে বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ দিয়ে কারখানাটির কার্যক্রম চলমান রাখা হয়। কারখানাটিতে অগ্নিকাণ্ডে অনেক লোক মারা যায়। গুরুতর আহত হয়ে আরো বেশ কয়েকজন ঢাকা বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আকরামের মালিকানাধীন মেসার্স এসার গ্যাস প্রো ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সেখান থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আসামি ইমানসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে সাতজন আসামির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আকরাম ও আহনাফ জনবহুল এলাকায় অবৈধভাবে আট থেকে ১০ বছর ধরে ৫০ থেকে ৬০ জন শিশু, নারী, পুরুষ শ্রমিক দিয়ে কারখানাটি পরিচালনা করে আসছেন।