কুরআনের সংস্পর্শে রয়েছে জীবনের সজীবতা
কুরআনের সংস্পর্শে রয়েছে জীবনের সজীবতা।। ছবিঃ সংগৃহিত
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এভাবে দুআ করতে শিখিয়েছেন, হে আল্লাহ, কুরআনকে আমার হৃদয়ের বসন্ত বানিয়ে দিন। আমার দিলের নূর বানিয়ে দিন, পেরেশানীর উপশম বানিয়ে দিন। কুরআনের মাধ্যমে যেন আমার দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়ে যায়, সে ব্যবস্থা করে দিন। (দ্রষ্টব্য : মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৩৭১২)
ঋতুরাজ বসন্ত। এর ছোঁয়ায় প্রকৃতি নতুন সাজে সজ্জিত হয়। গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়। বাগানে রংবেরঙের ফুল ফোটে। পাখির কলকাকলিতে চারপাশ মুখরিত হয়। ঠিক তেমনি মুমিনের জীবনে সজীবতা বিরাজ করে পবিত্র কুরআন মাজীদের সংস্পর্শে। কুরআনের প্রতি গভীর প্রেম ও মমত্বে জীবন সুরভিত হয়। কুরআনকে জীবনের বসন্ত হিসেবে বরণ করে নিলে ঈমান তরতাজা থাকে। কুরআনের সাথে যার সম্পর্ক যত প্রগাঢ়, তার ঈমান তত সুদৃঢ়। কাজেই আমাদের দায়িত্ব কুরআন মাজীদের সাথে সম্পর্ক মজবুত ও প্রাণবন্ত করা।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন–
اَلَّذِیۡنَ اٰتَیۡنٰہُمُ الۡکِتٰبَ یَتۡلُوۡنَہٗ حَقَّ تِلَاوَتِہٖ اُولٰٓئِکَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِہٖ وَمَنۡ یَّکۡفُرۡ بِہٖ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ .
যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি, তারা যখন তা তিলাওয়াত করে, যেভাবে তিলাওয়াত করা উচিত, তখন তারাই তার প্রতি (প্রকৃত) ঈমান রাখে। আর যারা তা অস্বীকার করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত লোক। –সূরা বাকারা (০২) : ১২১
ঈমানের অনিবার্য দাবি, আল্লাহর কিতাবের সাথে গভীর সম্পর্ক তৈরি করা। এ বিষয়টিই আয়াতে ‘যেভাবে তিলাওয়াত করা উচিত’ বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং প্রকৃত ঈমানের সাথে একে শর্তযুক্ত করা হয়েছে। পবিত্র কালামুল্লাহ্র তিলাওয়াত তখনই যথাযথ হয়, যখন মুমিনের যিন্দেগীজুড়ে বিরাজ করে কুরআনের প্রতি যথাযথ বিশ্বাস ও বিশ্বাসের প্রকাশ, চূড়ান্ত আস্থা ও ভালবাসা, সহীহ-শুদ্ধ তিলাওয়াত, কুরআনের পয়গামের প্রতি আত্মসমর্পণ; আর গোটা জীবনে প্রতিফলিত হয় কুরআনী বিধানের আলো।
এ বিষয়গুলো কীভাবে একজন মুমিনের জীবনে প্রতিফলিত হতে পারে তা নিয়েই এই নিবন্ধ।
কুরআন মাজীদের প্রতি যথাযথ বিশ্বাস স্থাপন করা
ঈমানের জন্য অন্যতম প্রধান শর্ত কিতাবুল্লাহ্র প্রতি যথাযথ ঈমান আনা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন–
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اٰمِنُوۡا بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ وَالۡکِتٰبِ الَّذِیۡ نَزَّلَ عَلٰی رَسُوۡلِہٖ وَالۡکِتٰبِ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلَ مِنۡ قَبۡلُ وَمَنۡ یَّکۡفُرۡ بِاللّٰہِ وَمَلٰٓئِکَتِہٖ وَکُتُبِہٖ وَرُسُلِہٖ وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ فَقَدۡ ضَلَّ ضَلٰلًۢا بَعِیۡدًا.
হে মুমিনগণ! ঈমান আনয়ন কর আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূলের প্রতি এবং তিনি যে কিতাব তাঁর রাসূলের ওপর নাযিল করেছেন, সেই কিতাবের প্রতি এবং যে কিতাবসমূহ তার পূর্বে নাযিল করেছেন, তার প্রতি। যে ব্যক্তি আল্লাহকে, তাঁর ফেরেশতাগণকে, তাঁর কিতাবসমূহকে, তাঁর রাসূলগণকে এবং পরকালকে অস্বীকার করে, সে সুদূর (চরম) ভ্রষ্টতায় নিপতিত হয়। –সূরা নিসা (০৪) : ১৩৬
কুরআনে আরও ইরশাদ হয়েছে–
اٰمَنَ الرَّسُوۡلُ بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡہِ مِنۡ رَّبِّہٖ وَالۡمُؤۡمِنُوۡنَ کُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰہِ وَمَلٰٓئِکَتِہٖ وَکُتُبِہٖ وَرُسُلِہٖ ...
রাসূল ঈমান এনেছেন ওইসকল বিষয়ের প্রতি, যা তার রবের পক্ষ থেকে তার প্রতি নাযিল হয়েছে এবং মুমিনরাও। তারা সকলেই ঈমান এনেছেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাকুলের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি...। –সূরা বাকারা (০২) : ২৮৫
কাজেই আল্লাহর কিতাবের প্রতি যথাযথ বিশ্বাস স্থাপন করা মুমিনের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। পাশাপাশি এই বিশ্বাসের প্রকাশ যেন আচার-আচরণ, বোধ-উপলব্ধি, চিন্তা-দর্শন ও জীবনে প্রতিফলিত হয়, সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখা অপরিহার্য।