ঢাকা-গোপালগঞ্জ ট্রেন চলবে এপ্রিল মাসেই: এমপি কেএম বাবর
সংগৃহীত ছবি
চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ঢাকা-গোপালগঞ্জ ট্রেন চলাচল শুরু হবে। আর পহেলা বৈশাখ থেকে ঢাকা থেকে বেনাপোলগামী ট্রেন মুকসুদপুর স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে বলে জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. কেএম বাবর।
শনিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এর মাধ্যমে জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে। অল্প খরচে মানুষ ট্রেনে চড়ে রাজশাহীর পাশাপাশি ঢাকা ও বেনাপোল যাতায়াত করতে পারবেন। এতে অর্থ ও সময় সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে এ জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে।
ডা. বাবর বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বিগত সরকার গোপালগঞ্জের এমন কোনো উন্নয়ন করেনি, যাতে এ জেলায় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। বিগত শেখ হাসিনার সরকার গোপালগঞ্জ থেকে রাজশাহী ট্রেন চালু করেছে। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, তারা কি পারত না গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা ট্রেন চালু করতে? তারা কি পারত না, গোপালগঞ্জে একটি ইপিজেড স্থাপন করতে?
তিনি আরো বলেন, ‘বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকার দেশ শাসন করেছে। এ জেলার মানুষ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তারপরও গোপালগঞ্জ পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার। পৌরসভার পানি মুখে নেওয়া যায় না। নতুন সংযোগ দিতে পারছে না। যে পানি সরবরাহ করে তাও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তখন শুনেছি, গোপালগঞ্জ পৌরসভা নাকি টাকার বন্যায় ভেসে গেছে। তাহলে ওই টাকা গেল কোথায়? জনগণের জন্য কি একটি পানির প্লান্ট নির্মাণ করা গেল না?’
ডা. বাবর বলেন, ‘আমরা তিন এমপি মিলে গোপালগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছি। আমাদের ব্যক্তিগত কিছু নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য দিন-রাত কাজ করছি। আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, হাতের কালি শুকানোর আগেই তা বাস্তবায়ন করছেন। সারা দেশের সঙ্গে গোপালগঞ্জেরও উন্নয়ন হবে।’
এ সময় তিনি ইউপি চেয়ারম্যানদের সমাজের নিরীহ, দরিদ্র ও মেহনতি মানুষের পক্ষে কাজ করতে আহ্বান জানান। বলেন, ‘নির্বাচনে ভোটের আশায় তাদের ঠকিয়ে প্রভাবশালীর পক্ষ নেবেন না। এলাকায় মাদক, চুরি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে থাকবেন, তাহলে আল্লাহ চাইলে আপনারা পুনরায় নির্বাচিত হবেন। আর মেহনতি মানুষের পক্ষে থাকলে আল্লাহ আপনার সঙ্গে থাকবেন।’
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা বাবলী শবনাম, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আনিসুর রহমান, গোবরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, হরিদাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস হোসেন, উরফি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির গাজী, করপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, কাঠি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম, দুর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজিম আহমেদ, রঘুনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম, কাজুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইউব আলী ফকির, শুকতাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রানা মোল্লা, সাহাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিনয় সরকার অনাদিসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।