বরিশালে বিস্ফোরণে বাবা-ছেলে দগ্ধ, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

বরিশালে বিস্ফোরণে বাবা-ছেলে দগ্ধ, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

প্রতিকি ছবি

বরিশাল নগরীতে ঘরের মধ্যে থাকা সিলিন্ডারের গ্যাস লিক করে বিস্ফোরণে বাবা ও ছেলে আহত হয়েছেন। বুধবার ভোররাতে নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ড দরগাবাড়ী মসজিদের পাশের তালুকদার ভিলা নামের তিনতলা ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রবিউল আল আমিন জানিয়েছেন।

গুরুতর অগ্নিদগ্ধ বাবা মানিক চন্দ্র শীলকে (৬০) ঢাকা পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও ছেলে মৃদুল চন্দ্র শীলকে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বরিশাল সদর ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার রবিউল আল আমিন আহত ছেলে মৃদুলের বরাতে বলেন, পরিবার নিয়ে থাকতেন তারা। গত রাতে বাবা ও ছেলে বাসায় ছিলেন। ওই রাতে নতুন একটি গ্যাস সিলিন্ডার এনেছিলেন। সিলিন্ডার চুলার সঙ্গে সংযোগ দেওয়ার পর শব্দ হয়। তখন বাবা মানিক সংযোগ সিলিন্ডারের সঙ্গে ভালো করে আটকে দেন। কিন্তু এরপরেও লিকেজ ছিল। এতে সিলিন্ডার থেকে গ্যাস ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ৬টার দিকে মানিক চন্দ্র শীল রান্না করার জন্য চুলা জ্বালাতে গেলে বিস্ফোরণ হয়। এতে ঘরের দরজা-জানালা উড়ে গিয়েছে। এ ছাড়াও আগুনে পুড়ে দগ্ধ হয়েছেন বাবা ও ছেলে। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, মানিক চন্দ্র শীলের শরীরের ৭০ ভাগ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। ছেলের শরীরের ৫ ভাগের মতো পুড়েছে। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বরিশাল মহানগর পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সন্দেহজনক কিছু পাননি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষয়টি গ্যাস লিকেজের কারণে হয়েছে। তবু তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো নাশকতার বিষয় পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘরের মধ্যে গ্যাসের সিলিন্ডার দুটি অক্ষত থাকায় প্রতিবেশীরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বিস্ফোরণে নিচতলাসহ আশপাশের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বলেন, গ্যাস লিকেজ হলে আগুন পেলে বিস্ফোরিত হয়। তখন অক্সিজেনের দুর্বল জায়গা পেলে সেই স্থান নিয়ে বের হয়ে যায়। এখানেও সেই ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণে ভবনের নিচতলার তিনটি কক্ষের দরজা, জানালা ও থাইগ্লাসসহ ব্যবহৃত আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়াও ওই ভবনের দ্বিতীয় তলা ও পাশের একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।