স্বাধীনতা পদক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে পেরে খুশি লিনু

স্বাধীনতা পদক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে পেরে খুশি লিনু

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অতি পরিচিত মুখ জোবেরা রহমান লিনু। দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন আজ। রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের কাছ থেকে ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য স্বাধীনতা পদক গ্রহণ করেন সাবেক টেবিল টেনিস তারকা লিনু।

স্বাধীনতা পদক পাওয়া অত্যন্ত গর্বের। এমন অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ পেয়ে আরো বেশি গর্বিত লিনু। সাবেক জাতীয় তারকা বলেন, 'এ রকম একটি অনুষ্ঠানে আমাকে বক্তব্য প্রদানের জন্যও সুযোগ দিয়েছে। এতে আরো বেশি খুশি হয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকার ক্রীড়াঙ্গন ও ক্রীড়াবিদদের গুরুত্ব দিচ্ছেন। আশা করি সামনে বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্ম এতে অনেক অনুপ্রাণিত হবে।'

লিনু তার বক্তৃতায়, এই পুরস্কারকে জীবনের সেরা প্রাপ্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এই স্বীকৃতি শুধু তার একার নয়, নারী ক্রীড়াবিদদের সাহসী সংগ্রাম ও স্বপ্নের ফসল হিসেবে দেখছেন। তার লিনু হয়ে উঠার পেছনে পরিবার, সতীর্থদের অবদান দিয়েছেন। ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি সমাজের অন্য ক্ষেত্রগুলোতে নারীর অগ্রযাত্রা ও সাফল্যে তার মনে হয় দীর্ঘ সংগ্রাম বৃথা যায়নি।

মাত্র ৯ বছর বয়স থেকেই টেবিল টেনিস ব্যাট হাতে ধরেন লিনু। ১৯৭৪ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত টেবিল টেনিসে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। নারী টিটিতে তিনি ১৬ বার একক চ্যাম্পিয়ন হন। টিটিতে তার সাফল্য কিংবদন্তীর পর্যায়ে নিয়েছে। বিশেষ করে ২০০২ সালে গিনেস বুক ওয়ার্ল্ডে নাম লেখিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে সাড়া ফেলেন লিনু। টেবিল টেনিসের পাশাপাশি জাতীয় সাইক্লিংয়েও চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন এই তারকা। খেলা ছাড়ার পর টেবিল টেনিস, সাইক্লিং ফেডারেশনে সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন।

প্রায় পাঁচ দশক ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পেলেন লিনু। যখন এই পুরস্কারের জন্য নাম ঘোষণা হয় তখন নিউজিল্যান্ডে ছিলেন। আজ পদক নেওয়ার পর অনুভূতি সম্পর্কে বলেন, 'এমন সম্মনা ও স্বীকৃতি পাওয়ার পর শুকরিয়া আদায় করা ছাড়া আসলে আর কিছু বলার থাকে না। বাকি জীবন ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গেই সম্পৃক্ত থাকতে চাই।'

লিনুর ক্রীড়াঙ্গনে আসার পেছনে অন্যতম অবদান তার বাবা। আজকের দিনে বাবাকে সবচেয়ে বেশি মিস করেছেন। লিনুর মা আজ অবশ্য অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। লিনুর বড় বোন মুনির মোর্শেদ হেলেনও জাতীয় টিটি চ্যাম্পিয়ন। কিংবদন্তী ক্রীড়াবিদ লিনু এখনো জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেননি।