স্বামী প্রয়োজনীয় খরচ না দিলে স্ত্রীর করণীয়
ফাইল ফটো
মানবজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধনগুলোর একটি হলো দাম্পত্য জীবন। এই সম্পর্ক শুধু ভালোবাসা ও সহমর্মিতার ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে না, বরং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই তা সুদৃঢ় হয়। ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর অধিকার ও কর্তব্য স্পষ্টভাবে নির্ধারিত—যেখানে স্বামীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো স্ত্রী ও সন্তানের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা। কিন্তু বাস্তবতায় কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন স্বামী যথাযথ কারণ ছাড়াই প্রয়োজনীয় খরচ প্রদান থেকে বিরত থাকেন।
তখন প্রশ্ন আসে—স্ত্রীর করণীয় কী?
এই বিষয়ে ইসলাম অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে। একদিকে যেমন পারিবারিক শান্তি ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে, অন্যদিকে প্রয়োজন ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে স্ত্রীর অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে শরিয়তের বিধান জানা এবং তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বামী যদি যথাযত কোনো কারণ ছাড়া স্ত্রী সন্তানের তথা সাংসারিক জরুরি খরচ না করে, তাহলে স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ছাড়াও স্বামীর সম্পদ থেকে প্রয়োজন মতো অপচয় না করে খরচ করতে পারবে।
হাদিস শরিফে এসেছে, ‘সাহাবিয়া হিনদ বিনতে উতবা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! (আমার স্বামী) আবু সুফিয়ান সংসারের খরচে সংকীর্ণতাকারী, সে আমার ও আমার সন্তানের প্রয়োজন পরিমাণ খরচ দেয় না, তবে আমি তার অগোচরে তার থেকে কিছু নিয়ে থাকি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, হ্যাঁ, তুমি তোমার ও তোমার সন্তানের প্রয়োজন পরিমাণ তার অগোচরে তার থেকে নিতে পারবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৫২৬৪, বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড : ২, পৃষ্ঠা : ২৭)
তবে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মালিকানা ভিন্ন হওয়ায় অনুমতি ছাড়া একে অন্যের সম্পদ ব্যয় করা অবৈধ। স্বামী যদি নিয়মমাফিক ভরণ-পোষণ ও স্বাভাবিক হাতখরচ-এর প্রয়োজন পূরণ করে থাকে, তাহলে তার কাছ থেকে তার অগোচরে টাকা পয়সা নিয়ে নেওয়া এবং তাকে না জানিয়ে বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা বৈধ হবে না।
(বাহারুর রায়েক, খণ্ড : ৪, পৃষ্ঠা : ১৭৭)
অতএব, স্বামীর ওপর যেমন স্ত্রী ও সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তেমনি স্ত্রীর জন্যও সীমা ও সংযম নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বামী যদি অযৌক্তিকভাবে প্রয়োজনীয় খরচ প্রদান না করে, তবে শরিয়ত স্ত্রীর জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে—তবে তা অবশ্যই অপচয় ও অন্যায় থেকে মুক্ত হতে হবে। অন্যদিকে, স্বামী যদি তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে, তাহলে তার অগোচরে সম্পদ গ্রহণ করা বৈধ নয়। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়া, আলাপ-আলোচনা এবং ন্যায়ের পথে চলাই দাম্পত্য জীবনের শান্তি ও স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি।