বিদেশ-ফেরত নারী ও শিশু অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় যশোরে কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ছবি: প্রতিনিধি
প্রশিক্ষণ ও ভাষাজ্ঞানের অভাবে বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের বড় অংশই পিছিয়ে পড়ছেন—এমন মন্তব্য করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশের চাকচিক্যে আকৃষ্ট হয়ে অনেকেই নিয়ম না মেনে বিদেশে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকায় সেখানে গিয়ে তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং ন্যায্য মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সোমবার যশোরে শিশু নিলয় ফাউন্ডেশনের হলরুমে বিদেশ-ফেরত নারী ও শিশু অভিবাসীদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। BRAC ও European Union-এর যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্রেন্টস (প্রত্যাশা-২)’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
ব্র্যাক যশোরের ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. আল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোর টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (টিটিসি) অধ্যক্ষ প্রকৌশলী গাজী ইকফাত মাহমুদ। তিনি বলেন, ভাষা ও দক্ষতার ঘাটতি নারীদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনেকেই দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, যা তাদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক রাহেনুর ইসলাম জানান, ২০২৩ সালে প্রায় তিন হাজার নারী কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিদেশে গেছেন। তিনি বলেন, নিরাপদ অভিবাসনের জন্য বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং নিজস্ব ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে আয় দেশে পাঠানো নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে দেশে ফিরে তারা সেই অর্থ সঠিকভাবে বিনিয়োগ করতে পারেন।কর্মশালায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের এমআরএসসি কো-অর্ডিনেটর রবিউল ইসলাম রুবেলের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের সিনিয়র অফিসার তানজিন সুলতানা সেঁজুতি। প্রবন্ধে নিরাপদ অভিবাসন, পুনর্বাসন এবং বিদেশ-ফেরত অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিদেশ-ফেরত অভিবাসী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সাল থেকে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম দেশের অভিবাসনপ্রবণ জেলাগুলোতে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, পুনরেকত্রীকরণ এবং বিদেশ-ফেরত অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় কাজ করে আসছে।