১০০ ফুট হিমবাহে ‘বন্ধ হয়ে গেল’ এভারেস্টে উঠার পথ
সংগৃহীত ছবি
পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণের মৌসুম শুরুর মুখে বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছে অভিযাত্রীরা। নেপালের বেস ক্যাম্প থেকে উপরের দিকে যাওয়ার রুটে বিশাল এক হিমবাহের খণ্ড (সেরাক) পথ আটকে দিয়েছে। এতে এ বছরের আরোহন সূচি নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন অভিযাত্রীরা।
প্রায় ১০০ ফুট (৩০ মিটার) উঁচু এই বরফখণ্ডটি ক্যাম্প–১ এর নিচে অবস্থান করছে।
অভিযাত্রীদের জন্য এভারেস্টের নিচের অংশে দড়ি ও মই স্থাপন করা ‘আইসফল ডাক্তার’ নামে পরিচিত শেরপা দল জানিয়েছেন, আপাতত এর পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো নিরাপদ উপায় নেই। তাদের মতে, একমাত্র উপায় হলো বরফখণ্ডটি স্বাভাবিকভাবে গলে বা ভেঙে পড়ার জন্য অপেক্ষা করা।
সাধারণত এপ্রিলের এই সময়ে ক্যাম্প-৩ পর্যন্ত রুট প্রস্তুত হয়ে যায়। কিন্তু এবার এখনো ক্যাম্প-১ এর নিচেই আটকে আছে কাজ।
এতে পুরো মৌসুমের প্রস্তুতি অন্তত কয়েক সপ্তাহ পিছিয়ে পড়েছে।
বেস ক্যাম্প থেকে বিবিসিকে নেপালের অভিজ্ঞ পর্বতারোহী পূর্ণিমা শ্রেষ্ঠা বলেন, “আমরা সাধারণত ক্যাম্প-১, ২ ও ৩-এর মধ্যে ওঠানামা করে শরীর মানিয়ে নিই। কিন্তু রুট খুলতে দেরি হওয়ায় এবার শীর্ষে ওঠার সময় ‘ট্রাফিক জ্যাম’ হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।”
এভারেস্টের বেস ক্যাম্প থেকে ক্যাম্প–২ পর্যন্ত দড়ি স্থাপনের দায়িত্বে থাকা সমন্বয়ক ছেরিং তেনজিং শেরপা জানান, ‘কৃত্রিমভাবে বরফ গলানোর কোনো কার্যকর উপায় এখনো পাওয়া যায়নি।
তাই আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।’
অভিজ্ঞ আইসফল ডাক্তার আং সার্কি শেরপার ভাষ্য, বরফখণ্ডটির নিচের অংশ ইতিমধ্যেই দুর্বল হয়ে গেছে এবং দ্রুত গলে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর পাশ দিয়ে বিকল্প পথ তৈরি করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
নেপালের পর্যটন বিভাগ এখন বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দড়ি স্থাপনকারী দলকে সরাসরি ক্যাম্প–২ এর কাছে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে, যাতে অন্তত উপরের অংশের রুট প্রস্তুত করা যায়।
এভারেস্ট আরোহনের অনুকূল সময় সাধারণত মে মাসের শেষ পর্যন্ত থাকে। কিন্তু এই বিলম্বের কারণে এবারের মৌসুম ছোট হয়ে যেতে পারে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক আরোহীকে শীর্ষে ওঠার চেষ্টা করতে হতে পারে, যা আবারও ‘জটলা’র ঝুঁকি বাড়াবে।
ইতিমধ্যে ৩৬৭ জন আরোহী এ বছরের জন্য অনুমতি নিয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই চীনা নাগরিক। যদিও চীনের দিক থেকে বিদেশিদের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি, তবুও অধিকাংশ আরোহী নেপালের দিক থেকেই এভারেস্টে ওঠার চেষ্টা করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহীদের দীর্ঘ লাইনের ছবি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে নেপাল সরকার অনুমতি ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরোপ করেছে এবং ফি বাড়িয়েছে। এ বছর বিদেশিদের জন্য আরোহন ফি বাড়িয়ে ১৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।