শেরপুর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি চলছে

শেরপুর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি চলছে

সংগৃহীত ছবি

বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কেউ ত্রিশ মাস, আবার কেউ পঞ্চাশ মাস ধরে বেতন পান না। দীর্ঘদিন ধরে বেতনভাতা বকেয়া থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। এ অবস্থায় বেতন পরিশোধের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন ভুক্তভোগীরা। 

গতকাল সোমবার থেকে তারা কর্মবিরতি পালন কর্মসূচি শুরু করেছেন। এতে করে পৌরসভার নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। 

অভিযোগ উঠেছে, শেরপুর পৌরসভায় একাধিক নিজস্ব খাত থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা আয় হলেও কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। এক-দুই মাসের বেতনভাতা দিয়ে তাদের কেবল শান্ত রাখা হয়। আর কাগজে-কলমে নানা বিল-ভাউচার তৈরি করে সিংহভাগ টাকা লোপাটে ব্যস্ত সংঘবদ্ধ একটি চক্র। প্রভাবশালী হওয়ার কারণে চক্রটির বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পান না।

ভুক্তভোগীরা বলেন, সামান্য বেতনে সংসার চালাতে হয়। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে বেতনভাতা মিলছে না। ফলে কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে। সেজন্য বাধ্য হয়ে কর্মবিরতি পালনের মাধ্যমে বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছেন তারা। দ্রুত এই দাবি পূরণে সংশ্লিষ্টরা পদক্ষেপ নেবেন বলেও আশা তাদের। 

পৌরসভার টিকাদানকারী আফরোজা বেগম বলেন, প্রায় পঞ্চাশ মাস বেতনভাতা পাচ্ছি না। ফলে বাসা-ভাড়া ও ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ধার-কর্জ করে কোনো রকমে দিনাতিপাত করছি। এছাড়া কোরবানির ঈদও আসন্ন। সংসারের খরচ জোগাড় করা নিয়ে চিন্তার শেষ নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, পৌরসভার হাট-বাজারসহ একাধিক নিজস্ব খাত থেকে লাখ লাখ টাকা আয় হলেও তার কোনো হদিস নেই। এসব টাকা লোপাট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু  কর্মচারীরা বেতন না পেয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করলেও কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শেরপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, ‘আমি এখানে সদ্য যোগদান করেছি। তাই অনেক কিছুই এখনো অজানা। তবে পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেশ কয়েকমাসের বেতন ভাতা বকেয়া রয়েছে। এজন্য তারা কর্মবিরতিও পালন করছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এই বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।’