দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিলো এলএনজি বোঝাই জাহাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিলো এলএনজি বোঝাই জাহাজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিলো এলএনজি বোঝাই জাহাজ।। ছবিঃ সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে গত মার্চ মাসের শুরু থেকে প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রথমবারের মতো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বোঝাই একটি জাহাজ পার হয়েছে বলে জানিয়েছে, সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা কেপলার।

সংস্থার তথ্য অনুযায়ী এএফপি জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি অ্যাডনক পরিচালিত ‘মুবারাজ’ নামের এলএনজি ক্যারিয়ারটি ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৯০ ঘনমিটার গ্যাস নিয়ে প্রণালীটি অতিক্রম করেছে।

জাহাজটি গত ২ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাস দ্বীপ থেকে মাল বোঝাই করেছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর ইরানি বাহিনী এই প্রণালীর ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, যার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এর পর গত ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান থেকে আসা জাহাজগুলোকে ফিরিয়ে দেয় এবং এশিয়ার কয়েকটি ট্যাংকারে অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয়।

কেপলার জানায়, মার্চের শেষে ‘মুবারাজ’ তার স্বয়ংক্রিয় অবস্থান শনাক্তকরণ সিগনাল বন্ধ করে দেয় এবং প্রায় এক মাস পর ভারতের উপকূলে আবার তা চালু করে।

কেপলারের বিশ্লেষক চার্লস কস্টেরুস বলেন, সম্ভবত জাহাজটি ১৮ থেকে ১৯ এপ্রিলের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে, তবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।

এর আগে ‘সোহর এলএনজি’ নামের আরেকটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে, তবে সেটি খালি বা খুব কম পরিমাণ গ্যাস নিয়ে চলাচল করেছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রণালীতে চলাচল সীমিত হওয়ায় কাতারের মতো বড় এলএনজি উৎপাদক দেশসহ এলএনজি বাজার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে জাহাজ ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিনট্র্যাফিক জানিয়েছে, ইদেমিৎসু মারু নামের ৩৩৩ মিটার (১,০০০ ফুট) দীর্ঘ একটি সুপারট্যাঙ্কার মঙ্গলবার তেল বোঝাই করে হরমুজ প্রণালীর উত্তরে একটি ইরানি চেকপয়েন্টের কাছ দিয়ে অতিক্রম করেছে।

এটি জাপান-সম্পর্কিত একটি জাহাজ বলে জানা গেছে।

গবেষণা সংস্থাগুলো বলছে, স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ এলএনজি বাণিজ্য এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ট্র্যাকার জানিয়েছে, ইরানের কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ প্রণালির কাছে থেমে আছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আরও জানা গেছে, ইরানের পুরনো একটি সুপারট্যাংকার ‘নাশা’ প্রায় দুই মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে উপসাগরে অবস্থান করছে।

ট্যাঙ্কার ট্র্যাকিং সাইট জানায়, ইরানের প্রায় ২০টি খালি ট্যাংকার লোডিংয়ের জন্য প্রস্তুত থাকলেও তাদের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি এবং অনেক জাহাজের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখা হয়েছে।

সূত্র: এএফপি, গালফ নিউজ।