সেই মাদরাসা শিক্ষক তিন দিনের রিমান্ডে, নিরাপত্তা চেয়ে ডাক্তারের জিডি

সেই মাদরাসা শিক্ষক তিন দিনের রিমান্ডে, নিরাপত্তা চেয়ে ডাক্তারের জিডি

সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোনার মদনে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহসিনা ইসলাম এই আদেশ দেন। পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে এই ধর্ষণের ঘটনায় বক্তব্য দেওয়ার পর প্রাণনাশ ও গণধর্ষণের হুমকি পাওয়ার অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শিশুটিকে পরীক্ষাকারী চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তার। গতকাল সকালে মদন থানায় তিনি এ জিডি করেন।

এর আগে বুধবার ভোররাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাগরকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১৪। পরে তাঁকে জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০২২ সালে হজরত ফাতেমাতুজ যাহরা মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে ভুক্তভোগী শিশুটি পড়াশোনা করত।

এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক সাগর জোরপূর্বক শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি প্রকাশ না করতে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে কয়েক মাস মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ রাখে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা দায়ের করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল বলেন, ‘পুলিশের সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক সাগর প্রাথমিকভাবে র‌্যাব ও পুলিশের কাছে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিন দিনের রিমান্ড শেষে আশা করছি, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটিত হবে।

শিশুটিকে পরীক্ষাকারী চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তার জানান, গত ৩০ এপ্রিল দুপুরে ওই শিশুকে নিয়ে তার মা চেম্বারে আসেন। শিশুটির শারীরিক সমস্যার কথা শুনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিনি জানতে পারেন শিশুটি ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিশুটি অভিযোগ করে, মাদরাসার এক শিক্ষক জোরপূর্বক তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল তাঁর কাছে শিশুটির বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে তিনি চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন।

ওই সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও অজ্ঞাতনামা ফোন নম্বর থেকে ডা. সায়মাকে গণধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এ বিষয়ে নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুত্ফুজ্জামান বাবরের সঙ্গে কথা হলে তিনি জিডি করার পরামর্শ দেন।