আল-আজহারে অনুবাদ, জ্ঞানবিনিময় ও বাংলাদেশে দাওয়াহ প্রকল্পের নতুন সম্ভাবনা
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইসলামী জ্ঞানচর্চা, অনুবাদ কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক দাওয়াহ উদ্যোগ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থীদের দপ্তরের প্রধান, শাইখুল আজহার ড. আহমেদ তৈয়্যিবের উপদেষ্টা ও কুল্লিয়াতুল উলূমুল ইসলামিয়ার ডিন ড. নাহালা সাঈদী এবং লেখক, কলামিস্ট ও আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান।
আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় ভাষান্তরের মাধ্যমে ইসলামী জ্ঞানকে বৈশ্বিক পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি। ড. নাহালা সাঈদী ইন্দোনেশিয়ায় তার একটি গ্রন্থ অনূদিত ও প্রকাশিত হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যা স্থানীয় শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সম্পন্ন হয়েছে।
এই সফল অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বাংলা ভাষায়ও অনুরূপ অনুবাদ কার্যক্রম সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী ইসলামী জ্ঞানচর্চার মূলধারার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে পারে।
লেখক জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান বাংলা ভাষায় আন্তর্জাতিক ইসলামী চিন্তাধারা ও গবেষণাধর্মী রচনার অনুবাদ ও প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ভাষাগত সীমাবদ্ধতা দূর হলে ইসলামী জ্ঞান আরও ব্যাপকভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা দাওয়াহ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসে বাংলাদেশে দাওয়াহ প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা। ড. নাহালা সাঈদী বাংলাদেশে একটি সংগঠিত দাওয়াহ ও শিক্ষা-ভিত্তিক প্রকল্প শুরু করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে জানা যায়। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হতে পারে ইসলামী শিক্ষা, নৈতিকতা ও জ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে।
আলোচনায় নারী শিক্ষা এবং ইসলামে নারীর অবদান প্রসঙ্গেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। উভয় পক্ষই মত প্রকাশ করেন যে, ইসলামী সভ্যতায় নারীর অবদান ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং সমকালীন যুগে তাদের অংশগ্রহণ আরও সুসংগঠিত ও কার্যকরভাবে বিস্তৃত করা প্রয়োজন।
বৈঠকে পারস্পরিকভাবে প্রকাশনা ও জ্ঞানবিনিময়ের বিষয়েও অগ্রগতি ঘটে। ড. নাহালা সাঈদী লেখক জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ানকে তার কিছু রচনার অনুবাদ ও প্রকাশের জন্য লিখিত অনুমতি প্রদান করেন এবং তার রচিত বই হাদিয়া প্রদান করেন। অন্যদিকে লেখকও তার প্রকাশিত গ্রন্থ উপহার হিসেবে প্রদান করেন, যা তিনি আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেন এবং দোয়া করেন লেখকের জন্য।
মারকাজুল তাতবীরের পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক এবং লেখকের সহচর মুহাম্মদ আম্মার হোসাইন, শিক্ষার্থী, কুল্লিয়াতুশ শারিয়া ইসলামিয়া, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়।