প্রথম প্রান্তিকে আইপিডিসির মুনাফায় বড় উল্লম্ফন

প্রথম প্রান্তিকে আইপিডিসির মুনাফায় বড় উল্লম্ফন

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কর-পরবর্তী নিট মুনাফায় বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে দেশের প্রথম বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৮ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকায়।

রবিবার (১০ মে) বিকেলে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পর এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শক্তিশালী নিট সুদ আয়, বিনিয়োগ আয় বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যয় ব্যবস্থাপনার কারণে এ প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) বেড়ে ১৬ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯ পয়সা।

সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও পরিচালন আয় ২৪ দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়ে ৯৪ কোটি ২০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে মোট সুদ আয় ৬ দশমিক ০১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকায়। ঋণ বিতরণে সতর্কতা ও সম্পদ পোর্টফোলিওর ধারাবাহিক ব্যবস্থাপনার কারণে এ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

অন্যদিকে সুদ ব্যয় মাত্র ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ১৮৪ কোটি ৪০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে নিট সুদ আয় ২২ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৫৮ কোটি ১০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। দীর্ঘদিনের মার্জিন চাপে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেই এ অগ্রগতি দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিনিয়োগ আয়ও প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। সরকারি সিকিউরিটিজ ও বিস্তৃত ট্রেজারি পোর্টফোলিও থেকে উচ্চ আয় হওয়ায় বিনিয়োগ খাতে আয় ৩২ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়ে ৩১ কোটি ৭০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে কমিশন ও ব্রোকারেজ আয় ১৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। সব মিলিয়ে মোট পরিচালন আয় বেড়ে ৯৪ কোটি ২০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি।

প্রথম প্রান্তিকে পরিচালন ব্যয় ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক অবস্থানে ছিল প্রতিষ্ঠানটি। এ সময়ে পরিচালন ব্যয় মাত্র ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ৩৯ কোটি ৭০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রভিশনের আগের মুনাফা ৪৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে ৫৪ কোটি ৫০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।

২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির ঋণ, অগ্রিম ও লিজের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৭৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ১ দশমিক ১৮ শতাংশ কম। চলমান অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিস্থিতিতে বাছাইকৃত ঋণ বিতরণ নীতির প্রতিফলন হিসেবে এ চিত্র দেখা গেছে বলে জানিয়েছে আইপিডিসি।

অন্যদিকে মোট আমানত ১ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকায়। এটি গ্রাহকদের আস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী তহবিল ভিত্তির প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) বেড়ে ১৮ টাকা ১ পয়সায় উন্নীত হয়েছে, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ১৭ টাকা ৮৫ পয়সা।

আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান দাউদ সামস বলেন, প্রথম প্রান্তিকের এ ফলাফল আইপিডিসির ব্যবসায়িক ভিত্তির দৃঢ়তা এবং কৌশলগত পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের প্রতিফলন। তিনি বলেন, গ্রাহকদের আস্থা আরও শক্তিশালী করা, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা এবং অংশীজনদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টি করার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।