শিক্ষিত বেকার কমাতে শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষিত বেকার কমাতে শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 

একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বেকারত্ব নিরসন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রাথমিক থেকে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর : টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন খুব সম্ভবত সম্ভব হবে না।

সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাও সম্ভব নয়। এ কারণেই বর্তমান সরকার একাডেমিক সিলেবাসকে সময়োপযোগী করার কাজ হাতে নিয়েছে।

উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সেতুবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী আইডিয়া বাস্তবায়নে সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে তারা ক্যাম্পাস থেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও প্রযুক্তির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বা বিগ ডাটার মতো প্রযুক্তি একদিকে প্রথাগত চাকরির বাজার সংকুচিত করছে, অন্যদিকে নিত্যনতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে।

এ সময় তিনি উবার, ফেসবুক, আলিবাবা ও এয়ারবিএনবির মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ টেনে বলেন, এদের নিজস্ব কোনো ট্যাক্সি, কন্টেন্ট, পণ্য বা রিয়েল এস্টেট নেই।

শুধুমাত্র একটি স্মার্ট ইন্টারফেস ও উদ্ভাবনী আইডিয়া দিয়ে তারা বিশ্ব শাসন করছে। আমাদের প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছেন, সুযোগ পেলে তাদের পক্ষেও বিশ্বমানের কিছু করা অসম্ভব নয়।

ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ শুরু করতে চায়। যেখানে মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতাকে আলিঙ্গন করার পাশাপাশি দেশজ মূল্যবোধ রক্ষার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমরা সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে হাঁটব, তবে আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ যেন হারিয়ে না ফেলি সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।