অর্থনৈতিক সংকট, প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল বলিভিয়া
সংগৃহীত ছবি
অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিক্ষোভকারীরা। খনি শ্রমিক ও গ্রামীণ ইউনিয়নের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এ আন্দোলন দেশজুড়ে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, আর বিক্ষোভকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিক্ষোভকারীরা রাজধানীর কেন্দ্রীয় চত্বর প্লাজা মুরিলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়।
বিক্ষোভকারীরা প্লাজা মুরিলোর নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। এর জবাবে খনিশ্রমিকরা পুলিশের ওপর
শক্তিশালী বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে। ফেডারেশন অব মাইনিং কোঅপারেটিভসের নেতৃত্বে হাজার হাজার খনিশ্রমিক এই বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন।
খনিশ্রমিকদের এই আন্দোলনের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি রয়েছে। তারা খনির কাজে প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক ও জ্বালানি তেলের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি খনি সংক্রান্ত চুক্তির শর্তাবলী পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া খনিশিল্পে নতুন ও আধুনিক নিয়ম চালুর দাবিও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।
বলিভিয়ার বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এই আন্দোলনকে আরও উসকে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী পক্ষ এবং সাবেক বামপন্থি প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস বিক্ষোভ উসকে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে দেশটির বর্তমান প্রশাসন।
পাজের কিছু মিত্র আবার অস্থিরতার জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসকে দায়ী করছেন। মোরালেস একসময় ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ছিলেন এবং বলিভিয়ার গ্রামীণ অঞ্চলে এখনো তার উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে। ২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি দেশটির নেতৃত্ব দেন। এর আগে এমএএস থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তিনি পাজের পূর্বসূরি আর্সের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদকে সমর্থন করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্টে মোরালেস বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্য করেন এবং সরকার তাকে বলির পাঁঠা হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তিনি খাদ্য, জ্বালানি এবং অন্যান্য মৌলিক সরবরাহের ঘাটতি দূর করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি লেখেন, তারা বিশ্বাস করেন যে বর্তমানে হাজার হাজার বলিভিয়ান—রাস্তায়, প্রতিবাদে—নিছক কোনো এক ব্যক্তির অনুগামী।
আরও লেখেন, বিক্ষুব্ধরা তাদের সামাজিক বিবেক এবং এমন এক সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে চালিত হচ্ছে, যা প্রথম দিন থেকেই সংবিধান ও জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা