অধিকার আদায়ে কাজ করছে জনতার দল : আজম খান

অধিকার আদায়ে কাজ করছে জনতার দল : আজম খান

সংগৃহীত ছবি

 

জনতার দলের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান বলেছেন, ‘দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করছে জনতার দল। দলটি এরই মধ্যে দেশের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। নাগরিকরা যেন তাদের অধিকার ফিরে পায়, সেজন্য আমরা তাদের ঐক্যবদ্ধ করছি।’

শুক্রবার বিকেলে জনতার দলের চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত কর্মী সমাবেশের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামাল, ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী চৌধুরী এবং কেন্দ্রীয় মহাসমন্বয়ক মেজর (অব.) ডেল এইচ খান। 

আজম খান বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি চট্টগ্রামে সড়কের একটি বড় অংশ হকারদের দখলে। হকারদের কীভাবে পুনর্বাসন করা হবে, তাদের কীভাবে সিস্টেমের আওতায় আনা হবে এবং চাঁদাবাজি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হবে, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশনসহ প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সমন্বয় করতে হবে। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

তিনি বলেন, আমাদের ঢাকা শহরেও একই অবস্থা। চাঁদাবাজি বন্ধ না করে এটিকে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। উচ্ছেদের নাটক করে পরের দিন আবার বসতে দেওয়া হয়। এরপর চাঁদার হার বাড়ানো হয়। এতে সরকার কর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নাগরিকদের অবশ্যই এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

দেশের সিটি করপোরেশনগুলোর ব্যবসামুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা কর আদায়ের ক্ষেত্রে সফল হলেও নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সেভাবে উদ্যোগী নয়।

এ সময় তিনি নাগরিক অধিকার আদায়ে জনতার দলের নেতাকর্মীদের সচেতনতা সৃষ্টি, নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং অধিকার আদায়ের দাবিতে মাঠে থাকার আহ্বান জানান।

দলটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামাল বলেন, ‘আমরা গ্যারান্টি দিয়ে বলতে চাই, জনতার দল দেশের একমাত্র প্ল্যাটফর্ম যেখানে দেশপ্রেমিক, সৎ ও সাহসী মানুষের নেতৃত্ব রয়েছে। এখানে কোনো খারাপ মানুষ নেই। এরই মধ্যে আমাদের দুটি অর্জন এসেছে। একটি হলো আমরা নিবন্ধিত দল। দ্বিতীয়টি গত জাতীয় নির্বাচনে আমাদের গড় ভোট জাতীয় পার্টির চেয়েও বেশি। এর অর্থ, এখন আমরা দেশের তৃতীয় বৃহত্তম দল। রাতারাতি কখনো ক্ষমতায় যাওয়া যায় না। আমাদের লক্ষ্য পরবর্তী প্রজন্ম। আমরা ন্যায়নীতি ও দেশপ্রেম নিয়ে এগোতে চাই। যতদিন সাফল্য না আসবে, ততদিন সংগ্রাম চালিয়ে যাব।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনতার দল অংশ নেবে জানিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

শামীম কামাল আরও বলেন, ‘আমরা চাই বর্তমান সরকার ভালো করুক। সরকার ও বিরোধীদল একত্রিত হয়ে যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে আমরা সন্তুষ্ট হবো। এখন পর্যন্ত অনেক বিষয়ে আমরা ধোঁয়াশা দেখতে পাচ্ছি। পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পে নিজস্ব অর্থায়নে ৩৪ হাজার কোটি টাকা একনেকে অনুমোদন হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো- তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে গত ৫৪ বছর ধরে রাজনৈতিক দলগুলো তিস্তাপাড়ের মানুষকে ধোঁকা দিয়েছে। এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, কিন্তু কাজ কিছুই হয়নি। পদ্মা ব্যারেজ হোক, তাতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা এলে অর্থসংস্থান নিয়ে টালবাহানা শুরু হয়। একবার চীনের কথা বলা হয়, এবার ভারতের কথা বলা হচ্ছে। এই প্রকল্পও নিজস্ব অর্থায়নে হওয়া উচিত।’

হায়দার আলী চৌধুরী বলেন, ‘ভূপ্রাকৃতিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে চট্টগ্রামের উন্নয়নে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে কোনো পরিকল্পনাই কার্যকর হবে না।’

কর্মীসভা শেষে আবুল বশরকে সভাপতি, মো. হারুন আল রশীদকে কার্যনির্বাহী সভাপতি এবং ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে চট্টগ্রাম জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া হায়দার আলী চৌধুরীকে সভাপতি, মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়াকে কার্যনির্বাহী সভাপতি এবং মো. শাহীন গাজীকে সাধারণ সম্পাদক করে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়।