ভবদহের সমস্যার স্থায়ী সমাধান চায় বর্তমান সরকার : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

ভবদহের সমস্যার স্থায়ী সমাধান চায় বর্তমান সরকার : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

ফাইল ছবি

 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ভবদহের সমস্যার স্থায়ী সমাধান চায় বর্তমান সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষতিপূরণ সঠিকভাবে দিয়ে দ্রুততম সময়ে সমস্যার সমাধান করা যাবে। এ সমাধান আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, যশোর জেলার মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর, সদর উপজেলা ও খুলনা জেলার ডুমুরিয়া এবং ফুলতলা উপজেলার মানুষ দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে।

বিগত সরকারগুলো ভবদহের সমস্যা সমাধানে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

শনিবার যশোর শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলার ভবদহ এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিবসা ও পশুর অববাহিকার পলি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা মতবিনিময় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রছুল, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক ও যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলী।

কর্মশালায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে সমীক্ষা প্রকল্পের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) এর সিনিয়র স্পেশালিস্ট শেখ নাহিদুজ্জামান।

কর্মশালায় জানানো হয়, এই সমীক্ষাটির আওতায় যশোর জেলার মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও সদর উপজেলা এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলায় সমীক্ষা চালানো হয়। প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর আয়তনের এই প্রকল্প এলাকায় নদী, খাল ও বিলের জরিপ, গাণিতিক মডেলিং, কৃষি, সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন করা হয়েছে।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোর জেলার ভবদহ এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন এবং শিবসা ও পশুর নদীর অববাহিকায় টেকসই পলি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে।

কর্মশালায় আরও জানানো হয়, সমীক্ষায় ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া এলাকার জন্য পৃথকভাবে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন নদী ও সংযোগ খাল খনন, অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন পাম্প স্থাপন, পাইলট চ্যানেল খনন, নদীর সঙ্গে বিল সংযুক্ত করে পুনরায় টিআরএম চালু করা, নদীর প্লাবনভূমি দখলমুক্তকরণ এবং ভবদহ রেগুলেটরকে সেতু দ্বারা প্রতিস্থাপন করে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা।

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, পানি ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট অংশীজন, জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও জনসাধারণ অংশ নেন।