রাশিয়ার তেলের ওপর অস্থায়ী ছাড় বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার তেলের ওপর অস্থায়ী ছাড় বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

ফাইল ছবি।

রাশিয়ার তেল রফতানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষেত্রে দেওয়া অস্থায়ী ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা আর নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।এতে বিশ্ববাজারে সমুদ্রপথে আটকে থাকা রুশ অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) কেনার যে এক মাসব্যাপী সুযোগ ছিল, তা কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, ওই অস্থায়ী ব্যতিক্রমমূলক সুবিধার মেয়াদ শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। ফলে এখন থেকে বৈশ্বিক ক্রেতারা আর নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত রুশ তেল কিনতে পারবে না, যা সমুদ্রপথে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ তেলের প্রবাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

বিশ্ববাজারে সরবরাহ শক বা আকস্মিক ঘাটতি তৈরি হওয়ার পর পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে প্রথমে এই অস্থায়ী ছাড় দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ওই সময় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও সরবরাহ ঘাটতির ঝুঁকি দেখা দেয়।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে বাজারে ভারসাম্য আনতে সমুদ্রপথে আটকে থাকা রুশ তেল ক্রয়ের সুযোগ দেওয়া হয়, যাতে বড় আমদানিকারক দেশগুলো সংকট এড়াতে পারে।

ভারতের মতো বড় ক্রেতাদের ওপর চাপ

অস্থায়ী ছাড়ের সময় ভারতের মতো বড় আমদানিকারক দেশ রাশিয়ার তেল কেনা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছিল। এক পর্যায়ে ভারতের রুশ ক্রুড আমদানি দৈনিক প্রায় ২ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত পৌঁছায়, যা ছিল রেকর্ড পরিমাণ। এখন এই ছাড় বাতিল হওয়ায় ভারতসহ অন্যান্য বড় ক্রেতাদের বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করতে হবে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ান তেল সরবরাহে এই সীমাবদ্ধতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি করবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইতোমধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী অস্থিরতায় তেলের দাম দীর্ঘদিন ধরে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি বা তার ওপরে অবস্থান করছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশটিতে ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম গড়ে প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ দশমিক ৫ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে। সরবরাহ সংকট বাড়লে এই দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল সংকুচিত হলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইউরোপ ও এশিয়ার জ্বালানি বাজারেও চাপ বাড়বে।

বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব

রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কঠোর হওয়া, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অনিশ্চয়তা- সব মিলিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এক ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যারা জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল।