চাঁদাবাজি মামলায় কথিত যুবদল নেতা ফাহিম কারাগারে
ছবি :প্রতিনিধি
চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টা মামলায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার কথিত যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান ফাহিমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মো. জুনাইদ এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার এক নম্বর আসামি ফাহিমসহ মোট ১১ জন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে প্রধান আসামি ফাহিমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিচারক তার আদেশে উল্লেখ করেন, মামলার নথি ও এজাহার পর্যালোচনায় আসামি মুশফিকুর রহমান ফাহিমের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং মামলাটির তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে।
সার্বিক বিবেচনায় আদালত আসামি ফাহিমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং তার বিরুদ্ধে 'কাস্টডি ওয়ারেন্ট' (সি-ডব্লিউ) ইস্যু করার আদেশ দেন।
অন্যদিকে, মামলায় অভিযুক্ত বাকি ১০ আসামির জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। স্থানীয় এক জিম্মাদারের জিম্মায় ৫০০ টাকা বন্ডে পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত তাদের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়।
এর আগে, গত ৬ মে রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় এই চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ফাহিমের বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে ফাহিমের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় তাকে একজন পেশাদার অপরাধী এবং চাঁদাবাজিসহ হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া গত বছর ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কে পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন ফাহিম। পত্র-পত্রিকায় শিরোনাম হয় তার এই চাঁদাবাজির খবর। এরপর ফাহিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা হলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি কোনো এক অজানা শক্তিবলে আবারও দলে ফিরে আসেন। দলে ফিরেই নতুন করে শুরু করেন পুরোনো কুকর্ম। চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারির কাণ্ডে তিনি এলাকার ত্রাসে পরিণত হয়েছেন।