ইস্তাম্বুলের কনস্যুলেট বন্ধ করছে ইসরায়েল

ইস্তাম্বুলের কনস্যুলেট বন্ধ করছে ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় আক্রান্ত হওয়ার জেরে ইস্তাম্বুলে অবস্থিত নিজেদের কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে ইসরায়েল। বিশ্বজুড়ে দেশটির প্রথমদিকের কূটনৈতিক মিশনগুলোর অন্যতম এই কনস্যুলেট বন্ধের বিষয়ে আলোচনা চলছে। বুধবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে ইসরায়েলের এক কূটনৈতিক সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।

ওই সূত্র বলেছে, ইস্তাম্বুলে কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হলেও আঙ্কারায় অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস খোলা থাকবে। তবে সেখানে কোনও কূটনৈতিক কর্মকর্তা থাকবেন না। গত বছরের ৭ অক্টোবরের হামাসের ইসরায়েলে হামলার পরপরই সেখানকার সব কর্মকর্তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

তুরস্কের বৃহত্তম এই শহরের বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত ইস্তাম্বুল কনস্যুলেট থেকেও সে সময় সব কূটনীতিককে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

এরপর থেকে আঙ্কারার দূতাবাস এবং ইস্তাম্বুলের কনস্যুলেট—উভয় মিশনই কেবল তুর্কি কর্মীদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভূমিকম্পের প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইস্তাম্বুল কনস্যুলেট ভবনটি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ইসরায়েলি ওই সূত্র বলেছে, বিষয়টি এখন আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি।

ইসরায়েলি ওই সূত্র বলেছে, ফাঁকা পড়ে থাকা ইস্তাম্বুলের এই ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ নিয়ে কিছু কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, কারও কারও যুক্তি হলো, আমাদের মালিকানাধীন এই ফাঁকা ভবনটি ধরে রাখতে গিয়ে প্রচুর অর্থ অপচয় হচ্ছে।

গত ৭ এপ্রিল এই কনস্যুলেট ভবনের কাছে একটি গুলির ঘটনার পরই ওই আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কেউ ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে বিস্তারিত কোনও তথ্য না দিয়ে কর্তৃপক্ষ এই হামলার জন্য ধর্মকে পুঁজি করা একটি সংগঠনকে দায়ী করেছে।

অক্টোবরের হামলার পর সর্বশেষ রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বর্তমানে একজন অন্তর্বর্তীকালীন দূতের মাধ্যমে ইসরায়েলে প্রতিনিধিত্ব বজায় রেখেছে তুরস্ক।

• তুরস্ক-ইসরায়েল সম্পর্কে চরম উত্তেজনা
গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বারবার ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে আসছেন।

এরদোয়ান ইতোমধ্যে নেতানিয়াহুকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং তাকে গণহত্যার খলনায়ক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বর্তমানে তুরস্কে ইহুদি সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা মাত্র ১৫ হাজারের কাছাকাছি; যা ১৯৫০-এর দশকে ছিল প্রায় ৫৫ হাজার। ১৯৪৯ সালে প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল তুরস্ক।

ছয় বছরের দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৬ সালে দুই দেশ আবার কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করে। ২০১০ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজা অভিমুখী ফ্রিডম ফ্লোটিলায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত অভিযানের পর এই সম্পর্কের ফাটল ধরে। তুরস্কের পতাকাবাহী ‘মাভি মারমারা’ জাহাজে ইসরায়েলি বাহিনীর সেই কমান্ডো হামলায় আটজন তুর্কি নাগরিকসহ ৯ জন অধিকারকর্মী নিহত হন।

সোমবার ইসরায়েলি নৌবাহিনী গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টায় থাকা আরেকটি নতুন ফ্লোটিলা বা নৌবহরকে অবরুদ্ধ করেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজার অবরোধ ভাঙার এটি ছিল তাদের তৃতীয় প্রচেষ্টা। এই নৌবহরটি গত সপ্তাহে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল থেকে গাজার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। সূত্র: এএফপি।