একসঙ্গে ১২৫ গরু-খাসি কুরবানি, ভাগ করে নিলেন সমাজের ৫৫৫৪ মানুষ

একসঙ্গে ১২৫ গরু-খাসি কুরবানি, ভাগ করে নিলেন সমাজের ৫৫৫৪ মানুষ

সংগৃহীত ছবি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের পুষ্টকামুরী গ্রামে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ বসবাস করলেও তারা একটি সমাজে পশু কুরবানি করে থাকেন। দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে এই ধারাবাহিকতা চলছে বলে জানা গেছে।

এ বছর গ্রামটিতে ১০৭টি গরু ও ১৮টি খাসি কুরবানি করা হয়েছে। গ্রামটির ৫ হাজার ৫৫৪ জন লোকের মধ্যে প্রত্যেককে ৭৫০ গ্রাম করে মাংস বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা আরও সহস্রাধিক দুস্থ মানুষের মধ্যে প্রায় ৫০০ গ্রাম করে মাংস বিতরণ করা হয়।

প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে গ্রামটিতে সামাজিকভাবে এক মাঠে পশু কুরবানি করে জনসংখ্যা হারে মাংস বিতরণ করা হচ্ছে বলে গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা জানিয়েছেন।

গ্রামের বাসিন্দা মির্জাপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সাবেক ভিপি আবু আহমেদ, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কাদের শিকদার, মির্জাপুর পৌর বিএনপির সভাপতি হযরত আলী মিঞা, সাধারণ সম্পাদক এস এম মহসীন, সমাজপতি মোতালের মিয়া, শরিফুল ইসলাম, সিয়াম আহম্মেদ জানান, গত দুই যুগের বেশি সময় ধরে পুষ্টকামুরী গ্রামবাসী সামাজিকভাবে এক মাঠে একত্রে কুরবানি করে থাকেন। কুরবানি করার জন্য গ্রামের লোকজনের আর্থিক সহায়তায় গ্রামের স্কুল ও মাদ্রাসার মাঠে প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়। বিভিন্ন মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজ শেষ করে সবাই যার যার পশু নিয়ে মাঠে আসতে থাকেন। এ বছরও একইভাবে কুরবানি করা হয়েছে।

তবে ঈদুল আজহার আগের দিন প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় এবং ঈদের দিন বৃষ্টির আশঙ্কায় কিছুটা ব্যতিক্রম হয়েছে। কয়েকজন সুবিধাজনক স্থানে কুরবানি করে তার এক তৃতীয়াংশ মাংস নিজ দায়িত্বে এবং স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে সামাজিক কাউন্টারে জমা করেন। গ্রামটিতে এবার ১০৭টি গরু ও ১৮টি খাসি কুরবানি করা হয়। তাছাড়া গ্রামের বিভিন্ন বয়সের তিন শতাধিক লোক স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করেন। স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে কুরবানি করা ৫ হাজার ১৬৫ কেজি গরু এবং ৯৬ কেজি খাসির মাংস সামাজিক কাউন্টারে সংগ্রহ করা হয়।

গ্রামের প্রায় সাড়ে ১ হাজার ১শ পরিবারের পাঁচ হাজার ৫৫৪ জন লোকের মধ্যে ৭৫০ গ্রাম করে মাংস সমহারে তালিকা অনুযায়ী পরিবার প্রধানের নাম ডেকে বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রায় সহস্রাধিক দুস্থ মানুষের মধ্যে প্রায় ৫শ গ্রাম করে মাংস বিতরণ করা হয়েছে বলে গ্রামের লোকজন জানান। পরে অবশিষ্ট থাকা মাংসও স্বেচ্ছাসেবক ও গ্রামের লোকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। 

পরিবার প্রধানের নাম তালিকাভুক্ত করার আগ মুহূর্তে ওই পরিবারে নতুন অতিথির জন্ম হলেও সে তালিকাভুক্ত হয়। তবে পরিবারের কোনো মেয়ে সদস্য বিয়ে হয়ে গেলে তাকে তালিকাভুক্ত করা হয় না বলে জানান গ্রামের লোকজন।