বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন। 

“বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ পালনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই।

তামাক চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তামাক পণ্যের ব্যবহার ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল ও প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ২ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। পরিবারের কর্মক্ষম মানুষের অসুস্থতা ও অকাল মৃত্যুতে পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়ে। জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি ব্যাহত হয়।

কিন্তু পক্ষান্তরে, তামাক ও তামাকজাত পণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভ্রান্ত প্রলোভনের আকর্ষণীয় প্রচারণার ফাঁদে পড়ে অনেক তরুণ ও যুবা তামাক ও ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়ছে। পরবর্তীতে অনেকে জড়িয়ে পড়ছে মাদকের মরণ নেশায়। এজন্য ব্যাপক জনসচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি। এ প্রেক্ষাপটে দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল’-এ স্বাক্ষর এবং ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫’ প্রণয়ন করে-যা ছিল তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। আমি বিশ্বাস করি, এই আইনের সঠিক বাস্তবায়ন ও কঠোর প্রয়োগ তামাকের করাল গ্রাস থেকে নারী, শিশু ও তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আমি আশা করি, তামাক ও ধূমপান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সকল আইন ও বিধি-বিধানের সঠিক প্রতিপালন নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আমি তামাকের বিরুদ্ধে জনগণকে বিশেষ করে তরুণদের সচেতন করতে প্রশাসন, নাগরিক সমাজ, সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও সর্বোপরি গণমাধ্যমগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

আমি ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করছি।”