বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, মৃত্যুর সময় রক্তাক্ত ছিল নাক-মুখ
প্রতিকি ছবি
হবিগঞ্জে নদী দাস (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণের পর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ সময় ভুক্তভোগীর নাক-মুখ রক্তাক্ত ছিল বলে দাবি পরিবারের।
নিহত নদী দাস (১৬) আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বদলপুর এলাকার অজিত দাসের মেয়ে। মায়ের মৃত্যুর পর তিনি বানিয়াচং উপজেলার মশাকলি গ্রামে নানার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত। সম্প্রতি সে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করে। শুধু ব্যবহারিক পরীক্ষা বাকি ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বানিয়াচং উপজেলার সুনারু গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় আইনজীবী সহকারী দিলিপ দাসের সঙ্গে নদীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে হবিগঞ্জ শহরের ইসকন মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে নদী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মন্দির কর্তৃপক্ষ বিয়ে সম্পন্ন না করে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
নদীর নানা নারায়ন দাস জানান, রবিবার সকালে পরিবারের অগোচরে আবারও নদীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান দিলিপ দাস।
পরে রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের উপশহর বাণিজ্যিক এলাকায় সড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। এ সময় তার নাক-মুখ রক্তাক্ত ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আমিনুল ইসলাম সরকার জানান, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।
বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হক বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ধর্ষণ, আত্মহত্যা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সবদিক বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।