গজারিয়ায় সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭
প্রতিকি ছবি
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার দুর্গম চর বলাকী গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাদের গ্রেপ্তার
সোমবার (১ জুন) দুপুরে ওই এলাকায় সংঘর্ষ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে মঙ্গলবার সকালে গজারিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চর বলাকী গ্রামের মৃত আবুল হাসেমের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৬৫), মৃত ফজলুল করিমের ছেলে আনোয়ার হোসেন প্রধান (৫০), মাহফুজ প্রধানের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩২), শুক্কুর আলীর ছেলে জান্নাত (৩১) এবং টান বলাকী গ্রামের হাজী মাহফুজ মেম্বারের দুই ছেলে মাসুম (৪৫), মনজুর আলম (৪৪) ও কেরামত আলী মাস্টারের ছেলে মাজহারুল (৫৫)।
মামলা ও আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। হোসেন্দী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ও রাজধানীর সানারপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সাতজনকে আটক করা হয়েছে।
ওসি মো. হাসান আলী আরও জানান, ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং সবকিছু পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় একটি স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
গুরুতর আহত সুমন ও জিকুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক বিরোধের অভিযোগ তোলা হলেও পুলিশ বলছে এটি মূলত গোষ্ঠীগত বিরোধ। সোমবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইমরান আহম্মেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এটিকে গোষ্ঠীগত বিরোধ বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
উল্লেখ্য, একই গ্রামে এর আগেও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কয়েকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর এবং ৫ এপ্রিল সংঘর্ষে ১৯ জন আহত হন।