আমলকী যেভাবে খেলে বেশি উপকার পাবেন
ফাইল ফটো
আমলকী শুধু কাঁচাই খাওয়া হয় না, এটি দিয়ে তৈরি মোরব্বা, চাটনিও বেশ জনপ্রিয়। অনেকে আবার আমলকীর রস খেতে বেশি পছন্দ করেন। সুপারফুড হিসাবে সমাদৃত এই ছোট সবুজ ফলটি পুষ্টিগুণে ভরপুর। ত্বকের উন্নতি, চুল মজবুত করা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো বা হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা পর্যন্ত, নিয়মিত আমলকী খেলে এরকম আরও অনেক উপকার।
আমলকীকে কেন এত স্বাস্থ্যকর বলে মনে করা হয়?
ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য উপকারী যৌগে সমৃদ্ধ হওয়ায় আমলকী আমাদের দেশে সহজলভ্য সবচেয়ে পুষ্টিকর ফলের মধ্যে একটি। নিয়মিত এই ফল খেলে শরীরে অনেক পুষ্টির ঘাটতি সহজে পূরণ করা যায়।
আমলকীর রস: উপকারী কিন্তু ফাইবারের অভাব
আমলকী খাওয়ার অন্যতম জনপ্রিয় একটি উপায় হলো এর রস। সরাসরি ফলটি খেতে পছন্দ না করলে এভাবে খেতে পারেন। তবে রস করে খাওয়া হলে এর বেশিরভাগ ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়। যদিও এতে থাকা অনেক ভিটামিন ও খনিজ পাবেন, কিন্তু ফাইবারের অভাবে শরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হবে, যা হজম এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে।
আস্ত কাঁচা আমলকী: পুষ্টিগুণে ভরপুর কিন্তু সবার জন্য নয়
আস্ত কাঁচা আমলকী খেলে আপনি ফাইবারসহ এর সম্পূর্ণ পুষ্টিগুণ পেতে পারেন। তবে কাঁচা আমলকীর তীব্র টক এবং কষটে স্বাদ সবার কাছে আকর্ষণীয় না-ও লাগতে পারে। কারও কারও জন্য এটি হজম করাও কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে বেশি পরিমাণে খেলে।
ফার্মেন্টেড আমলকী: বিশেষজ্ঞরা যে পরামর্শ দেন
ফার্মেন্টেড আমলকী এই ফলটি খাওয়ার সেরা উপায় হতে পারে। এটি ফাইবারের সঙ্গে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করে এবং অসাধারণ প্রোবায়োটিক হিসেবেও কাজ করে।গাঁজন প্রক্রিয়া উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং একইসঙ্গে ফলটিতে প্রাকৃতিকভাবে উপস্থিত ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইবার ধরে রাখতে সহায়তা করে।
দিনে কতগুলো আমলকী খাওয়া যাবে?
আমলকী খাওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। এটি দিনের যেকোনো সময় উপভোগ করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচটি আমলকী খাওয়ার পরামর্শ দেন। ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে এর ফাইবার এবং পুষ্টিগুণ সবচেয়ে ভালোভাবে পাওয়া যায়।