সারারাত এসিতে থেকে সকালে মাথাব্যথা, কেন এমন হয়?

সারারাত এসিতে থেকে সকালে মাথাব্যথা, কেন এমন হয়?

ফাইল ফটো

গরমে স্বস্তি পেতে অনেকেই সারা রাত এসি চালিয়ে রাখেন। রাতে তো আরামে ঘুম হয় ঠিকই, সমস্যা হলো সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাব্যথা শুরু হয়। মাথা ভারী লাগে। স্বাভাবিকভাবেই তখন মনে প্রশ্ন জাগে, এর জন্য কি এসি দায়ী? এসি সরাসরি মাথাব্যথার কারণ না হলেও, এর কারণে এমন কিছু শারীরিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যা মাথাব্যথার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। 

বিষয়টা কেমন? দীর্ঘ সময় ঠান্ডা আর শুষ্ক বাতাসের সংস্পর্শে থাকলে শরীরে কিছু পরিবর্তন ঘটে। যা মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। 

পেশির শক্ত হয়ে যাওয়া

এসি-জনিত মাথাব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ হলো পেশির টান। সারারাত গলা, কাঁধ ও মাথার আশেপাশে ঠান্ডা বাতাস এসে লাগার কারণে ওই অংশগুলোর পেশি শক্ত হয়ে যেতে পারে। ফলে ‘টেনশন হেডেক’ বা চাপজনিত মাথাব্যথা তৈরি হয়। 

এই ধরনের মাথাব্যথা হলে সাধারণত কপাল, মাথার দু’পাশ বা টেম্পল অঞ্চলে চাপ অনুভূত হয়। অনেক সময় মাথাব্যথার সঙ্গে ঘাড়ে ব্যথা বা অস্বস্তিও দেখা দেয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এই সমস্যা আরও বেশি অনুভূত হতে পারে।

শুষ্ক বাতাস ও ডিহাইড্রেশন

এসি ঘরের তাপমাত্রা কমানোর পাশাপাশি বাতাসের আর্দ্রতাও কমিয়ে দেয়। ফলে ঘরের পরিবেশ ধীরে ধীরে শুষ্ক হয়ে ওঠে। শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে এই শুষ্ক পরিবেশ ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ডিহাইড্রেশনের অন্যতম সাধারণ লক্ষণ মাথাব্যথা। পাশাপাশি দুর্বল লাগা, মনোযোগে ঘাটতি এবং ক্লান্তিও দেখা দিতে পারে। যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে শরীরে পানির ঘাটতি মাথাব্যথার প্রবণতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

সাইনাসের সমস্যাও বাড়তে পারে

ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস নাকের ভেতরের আস্তরণকে উত্তেজিত করতে পারে। ফলে আগে থেকে থাকা সাইনাসের সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। মুখমণ্ডল, চোখের চারপাশ এবং কপালে চাপ অনুভূত হওয়া বা ব্যথা হওয়া সাইনাসজনিত মাথাব্যথার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষত যাদের অ্যালার্জি বা দীর্ঘদিনের সাইনাসের সমস্যা রয়েছে, তারা এসির ঠান্ডা পরিবেশে বেশি অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন।

কাদের ঝুঁকি বেশি? 

মাইগ্রেন, সাইনাস ইনফেকশন, সার্ভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিস, হাঁপানি বা ঘুমের সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে এই ধরনের মাথাব্যথা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এছাড়া ভুল ভঙ্গিতে ঘুমালে এবং মাথা বা ঘাড়ের দিকে সরাসরি ঠান্ডা বাতাস লাগলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

সমস্যা কমাতে করণীয় 

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঘুমানোর সময় এসির বাতাস যেন সরাসরি শরীরে না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ঘরের তাপমাত্রা খুব কম না রেখে মাঝামাঝি পর্যায়ে রাখুন। পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। শুষ্ক পরিবেশে থাকলে হিউমিডিফায়ারও ব্যবহার করতে পারেন। 

এসি সরাসরি মাথাব্যথার কারণ না হলেও, ঠান্ডা বাতাস, ডিহাইড্রেশন এবং পেশির টান একসঙ্গে মাথাব্যথার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চললেই গরমের রাতে আরামদায়ক ঘুমের পাশাপাশি সকালও সতেজ ও প্রাণবন্ত হতে পারে।