চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্যের যোগদান
ড. মোহাম্মদ আল-আমীন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীনকে ৪ (চার) বছরের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) হিসেবে যোগদান করেছেন। এ সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান, সদ্য বিদায়ী উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন, চবি বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, প্রভোস্টবৃন্দ, প্রক্টর, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক, চাকসুর পরিচালক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় অসামান্য অবদানের জন্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বাংলাদেশের বন ও পরিবেশবিজ্ঞান অঙ্গনের অন্যতম বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও প্রশাসক হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন দেশের বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণার অন্যতম অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ ৩৭ বছরেরও বেশি পেশাগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তিনি শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেসের (IFESCU) এর গ্রেড-১ অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস থেকে বন-বাস্তুতন্ত্র ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, কার্বন সিকোয়েস্ট্রেশন ও জিআইএসভিত্তিক গবেষণার ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া জার্মানির গটিঙ্গেন বিশ্ববিদ্যালয়ে Population Genetics ও Isozyme Studies বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডায় জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে বন অভিযোজন বিষয়ে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন।
তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩১ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা করছেন। অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটেও (BFRI) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তিনি সুপরিচিত। এশিয়া-প্যাসিফিক ফরেস্ট্রি এডুকেশন কো-অর্ডিনেশন মেকানিজম (APFECM)-এর নির্বাহী কমিটির নির্বাচিত সদস্য এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাসোসিয়েশন অব ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউশনস (APAFRI)-এর নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের REDD+ জাতীয় কমিটির বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাথে যুক্ত রয়েছেন এবং সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।