পেন্টাগনে ‘বিপজ্জনক পদার্থ’ শনাক্ত, ভবন লকডাউন
সংগৃহীত
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের ভেতরে বায়ুর গুণগত মান সম্পর্কিত সমস্যা ও ‘বিপজ্জনক পদার্থের’ (হ্যামাট) উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর পঞ্চভুজ ভবরটির একাধিক ফ্লোর ও করিডোরে লকডাউন জারি করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ভেতরে থাকা কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র এবং স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
দুটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, পেন্টাগন কমপ্লেক্সের চার থেকে সাত নম্বর করিডোরে অবস্থিত দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত লকডাউন করা হয়েছে।
তৃতীয় একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ভবনের ভেতরে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের গ্যাস মাস্ক এবং পূর্ণাঙ্গ রাসায়নিক সুরক্ষা পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে।
এদিকে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে বলেন, পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে ‘বায়ুর গুণগত মানসংক্রান্ত একটি সমস্যা ধরা পড়েছে। এর কারণ উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত লকডাউন জারি থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, যেসব জায়গায় সমস্যা দেখা গেছে, সেসব স্থানে ‘শেল্টার-ইন-প্লেস’ (যার যার অবস্থানে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা) নির্দেশনাসহ প্রচলিত সেফটি প্রটোকল মেনে চলা হচ্ছে। ভবনের ভেতরে অবস্থানকারীদের সহায়তার জন্য বেশ কয়েকটি টিম প্রস্তুত রয়েছে।
পেন্টাগন ফোর্স প্রোটেকশন এজেন্সির মুখপাত্র ক্যাপ্টেন জেমি জিল জানান, পেন্টাগন ফোর্স প্রোটেকশন এজেন্সির (পিএফপিএ) নিজস্ব দাঙ্গাবিরোধী দল এবং আর্লিংটন কাউন্টি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের হাজার্ডাস ম্যাটেরিয়াল দল যৌথভাবে কাজ করছে।
আর্লিংটন ফায়ার অ্যান্ড ইএমএস-এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, আর্লিংটন কাউন্টি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের হ্যাজার্ডাস ম্যাটেরিয়ালস টিম পেন্টাগনে ‘একটি বিপজ্জনক পদার্থসংক্রান্ত ঘটনা’ খতিয়ে দেখছে।
পেন্টাগনের সিকিউরিটি টিমের পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে, বায়ুর গুণগত মানসংক্রান্ত সমস্যা শনাক্তের পর বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এই পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করতে এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। সেন্টার কোর্টইয়ার্ডে বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালাতে পারেন। অনুগ্রহ করে এসব কার্যক্রম সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা করবেন না।’
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তর পেন্টাগন পৃথিবীর বৃহত্তম এবং অন্যতম আইকনিক প্রশাসনিক ভবন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন অত্যন্ত কম সময়ে নির্মিত এই ভবনের নকশা ও গাঠনিক বৈশিষ্ট্য অনন্য। ভবনটি দেখতে একটি নিখুঁত পাঁচ বাহুবিশিষ্ট জ্যামিতিক কাঠামোর মতো। ভবনটির মোট আয়তন প্রায় ৬৫ লাখ বর্গফুট। এর মধ্যে ৩৭ লাখ বর্গফুট এলাকা শুধুমাত্র অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখানে প্রতিদিন প্রায় ২৩ হাজার সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আরও ৩ হাজার অন্যান্য সহায়ক কর্মী কাজ করেন।
সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স