জেনে নিন জাম বেশি খেলে কী হয়
ছবিঃ সংগৃহীত।
গ্রীষ্মকাল এলেই বাজারে দেখা মেলে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল জাম। এর মিষ্টি-টক স্বাদ যেমন জিভে জল আনে, তেমনি শরীরের জন্যও এটি বেশ উপকারী।জামে রয়েছে ভিটামিন সি, আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।
এটি রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে, হজমশক্তি উন্নত করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। তবে যেকোনো ভালো জিনিসের মতো জামও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। কারণ অতিরিক্ত খাওয়া বা ভুল নিয়মে খেলে উপকারের বদলে ক্ষতিও হতে পারে।
অতিরিক্ত জাম খেলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে
জাম হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কিছু মানুষের রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যাদের আগে থেকেই নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাদের জাম খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতি বজায় রাখা উচিত। মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা বা ক্লান্তি অনুভব করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও বাড়তে পারে
জামে প্রচুর আঁশ থাকলেও অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে উল্টো হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় বেশি পরিমাণে জাম খেলে পেট ভারী লাগা, হজমে ধীরগতি বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা হতে পারে। তাই একবারে অনেক বেশি না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বাড়তি সতর্কতা
জাম রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে বলে ডায়াবেটিস রোগীদের কাছে এটি জনপ্রিয়। তবে যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ খান, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জাম খেলে রক্তে শর্করা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কমে যেতে পারে। বিশেষ করে কোনো অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
ত্বক ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যার সম্ভাবনা
অতিরিক্ত জাম খাওয়ার ফলে কিছু মানুষের ত্বকে ব্রণ বা অ্যালার্জিজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার যাদের শরীরে বিশেষ ধরনের প্রদাহজনিত সমস্যা বা বাতের ব্যথা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত খাওয়া অস্বস্তি বাড়াতে পারে। যদিও এসব সমস্যা সবার ক্ষেত্রে হয় না, তবু শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে জাম খাওয়া উচিত।
জাম খাওয়ার পরপর পানি পান কেন ঠিক নয়
অনেকেই জাম খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পানি পান করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এড়িয়ে চলাই ভালো। জাম খাওয়ার পরপরই বেশি পরিমাণে পানি পান করলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পেটে অস্বস্তি, গ্যাস, বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই জাম খাওয়ার পর অন্তত কিছুটা সময় বিরতি দিয়ে পানি পান করাই ভালো অভ্যাস।
খালি পেটে জাম খাওয়ার ঝুঁকি
সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে জাম খাওয়ার অভ্যাস অনেকের রয়েছে। কিন্তু এটি সবার জন্য উপযোগী নয়। জামের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক অ্যাসিড খালি পেটে কিছু মানুষের পাকস্থলীতে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে অম্বল, বুকজ্বালা বা অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তাদের এ বিষয়ে বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
দুধজাতীয় খাবারের সঙ্গে সতর্কতা
জাম খাওয়ার পরপরই দুধ, দই বা পনির খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। তবে এই অভ্যাস সবার জন্য ভালো নাও হতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এমন খাবারের সংমিশ্রণ হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং পেটে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তাই জাম খাওয়ার পর কিছুটা সময় বিরতি দিয়ে দুধজাতীয় খাবার খাওয়াই ভালো।
পরিমিত পরিমাণেই মিলবে উপকার
জাম একটি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর ফল। তবে বেশি খেলেই বেশি উপকার হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। যেকোনো খাবারের মতো জামের ক্ষেত্রেও পরিমিতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে এবং পরিমাণমতো জাম খেলে এর পুষ্টিগুণ পুরোপুরি পাওয়া যায়। তাই সুস্থ থাকতে স্বাদ ও স্বাস্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে জাম খাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।