স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে লুট, ৫ ভুয়া র্যাব সদস্য গ্রেফতার
প্রতিকি ছবি
র্যাব পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডাকাতির মামলা হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত তিনটি ভুয়া র্যাব পরিচয়পত্র, পাঁচটি র্যাব লেখা কালো জ্যাকেট, পাঁচটি ক্যাপ, একটি মাইক্রোবাস, ছয়টি নম্বরপ্লেট, একটি ওয়াকিটকি সেট, একটি পিস্তলের কভার, একটি খেলনা পিস্তল এবং তিন জোড়া হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—আশরফুল ইসলাম ওরফে আপেল (৩৮), সুমন (৩৬), সারোয়ার হোসেন সাগর (৩৫), সুমন ওরফে ক্যাপ সুমন (৩৫) এবং কাঞ্চন (৩৫)।
শুক্রবার দুপুরে কেরানীগঞ্জের কমদতলী এলাকায় ঢাকা জেলা ডিবি (দক্ষিণ) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (দক্ষিণ) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম সুমন।
ওসি সফিকুল ইসলাম সুমন জানান, গত বৃহস্পতিবার আশুলিয়া থানায় র্যাব পরিচয়ে ডাকাতির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়। মামলার পর ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (দক্ষিণ) অভিযান শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মামলার আসামিরা একটি টয়োটা মাইক্রো বাসে করে সাভারের আকরাইন এলাকা থেকে খাগান বাজারের দিকে যাচ্ছে। পরে ডিবির একটি দল আকরাইন বাজার মোড়ে অবস্থান নিয়ে সন্দেহভাজন গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি চালায় এবং পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।
তিনি আরও জানান, আশুলিয়ার ইউসুফ মার্কেট এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রদীপ কর্মকার দোকান বন্ধ করে প্রায় তিন ভরি স্বর্ণ, ৪০ ভরি রুপা ও নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে র্যাব পরিচয়ধারী একটি দল তার গাড়ি থামিয়ে চোখ বেঁধে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। পরে তার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার, রুপা ও নগদ টাকা লুট করে ভবানীপুর এলাকায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে র্যাব ও ডিবি পুলিশের পরিচয়ে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। আশুলিয়া থানায় দায়ের করা ডাকাতি মামলায় তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।