কিংবদন্তি ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আব্দুস সাদেক এর ইন্তেকাল

কিংবদন্তি ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আব্দুস সাদেক এর ইন্তেকাল

কিংবদন্তি ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আব্দুস সাদেক এর ইন্তেকাল//ছবিঃ সংগৃহীত।

বাংলাদেশ হকির প্রবাদপ্রতিম খেলোয়াড়, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দিককার কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ আব্দুস সাদেক আর নেই। আজ শনিবার সকালে গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সর্বকালের অন্যতম সেরা হকি খেলোয়াড় হিসেবে তিনি সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত।

১৯৪৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকায় জন্মগ্রহণ করা আব্দুস সাদেক ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। শৈশব থেকেই খেলাধুলার প্রতি তীব্র অনুরাগী এই ক্রীড়াবিদ ফুটবল, ক্রিকেট ও হকি- তিন খেলাতেই সমান পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। তবে হকির জাদুকর হিসেবেই তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

স্বাধীনতোত্তর বাংলাদেশে আবাহনী ক্রীড়াচক্রের উত্থানের ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সদ্য স্বাধীন দেশে আবাহনীর আকাশী-নীল জার্সিতে ফুটবল ও হকি—উভয় দলেরই ঐতিহাসিক প্রথম অধিনায়ক ছিলেন তিনি। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বেই আবাহনী দুই খেলাতেই নিজেদের প্রথম লিগ শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিল।

ষাটের দশকে আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সাদেকের হকি জীবনের শুরু। ১৯৬১ সালে লাহোরে প্রশিক্ষণের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ১৯৬৪ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত টানা সাত বছর জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান জাতীয় হকি দলে তাঁর অভিষেক হয়। ১৯৭১ সালের পাকিস্তান বিশ্বকাপ স্কোয়াডেরও সদস্য ছিলেন তিনি।

স্বাধীনতার পর আন্তর্জাতিক হকিতে বাংলাদেশের পথচলা শুরু হয় তাঁর হাত ধরেই। ১৯৭৮ সালের ব্যাংকক এশিয়ান গেমসে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের অভিষেক ম্যাচে তিনি অধিনায়কত্ব করেন। সেই টুর্নামেন্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম আন্তর্জাতিক জয়টিও আসে তাঁর নেতৃত্বে।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন এই সাধক। ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৬ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার এবং ২০২৩ সালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। তাঁর প্রয়াণে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।