বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন রাজত্ব, অনন্য উচ্চতায় লিওনেল মেসি
ফাইল ছবি
ফুটবল বিশ্বের সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে লিওনেল মেসি নিজেকে নিয়ে গেলেন এক অনন্য উচ্চতায়। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক গোল করে তিনি এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে এককভাবে আসীন হয়েছেন। দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে ১৭টি গোল নিয়ে এখন সবার ওপরে আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এর আগে এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা, যিনি ১৬টি গোল করে দীর্ঘদিন রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছিলেন।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি মেসির জন্য ছিল অগ্নিপরীক্ষার মতো। ম্যাচের শুরুতেই অষ্টম মিনিটে পেনাল্টি মিস করে কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেই মুহূর্তটি যেন ইতিহাসের পাতায় তার নাম খোদাই করার আগে এক চরম নাটকীয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। তবে দমে যাওয়ার পাত্র নন মেসি। খেলার ধারায় অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি গোলটি আদায় করে নেন এবং নিজের নামের পাশে ১৭তম গোলটি যুক্ত করেন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ঠিক ২০ বছর আগে, ২০০৬ সালে। তৎকালীন সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে নিজের প্রথম গোলটি করেছিলেন তিনি। সেই থেকে শুরু হওয়া পথচলায় ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং সবশেষ ২০২৬ সালের আসরেও তিনি নিয়মিত গোল করে গেছেন। বিশ্বকাপের বিভিন্ন আসরে তার গোল সংখ্যা হিসাব করলে দেখা যায়, ২০০৬ সালে ১টি, ২০১৪ সালে ৪টি, ২০১৮ সালে ১টি এবং ২০২২ সালের অবিশ্বাস্য সেই বিশ্বকাপে তিনি করেছিলেন ৭টি গোল।
মেসির এই ঐতিহাসিক অর্জনের দিনে ফুটবল বিশ্লেষকদের নজর এখন ভবিষ্যতের দিকেও। বর্তমানে ১৭ গোল নিয়ে তিনি শীর্ষে থাকলেও তার ঠিক পেছনেই আছেন তরুণ ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাত্র ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পের ঝুলিতে এখন পর্যন্ত ১৪টি গোল রয়েছে। বয়সের দিক থেকে এগিয়ে থাকায় এমবাপ্পে আগামীতে আরও অন্তত দুটি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবেন, যা মেসি বা ক্লোসার রেকর্ড ভাঙার ক্ষেত্রে তাকে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে।
তবে আপাতত ফুটবল দুনিয়া মেতে আছে মেসির এই মহাকাব্যিক অর্জনের উদযাপনে, যিনি দীর্ঘ দুই দশকের ক্যারিয়ারে নিজেকে প্রমাণ করেছেন ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে।