ড্রিহাইড্রেশনের কারণে কি নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে?
ছবি: সংগৃহীত
আমাদের প্রায় সবারই কখনো না কখনো নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যা হতে পারে। সাধারণত আমরা এর জন্য শুষ্ক আবহাওয়াকে দায়ী করি। অথবা অ্যালার্জিকে। কিংবা বারবার নাক খোঁটাকে। কিন্তু এর একটি নীরব কারণও আছে, যা সচরাচর উল্লেখ করা হয় না। আর তা হলো ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা। শুনে মনে হতে পারে যে এটি আমাদের নাকের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ডিহাইড্রেশনের কারণে নাক কেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
নাকের ভেতরে একটি পাতলা, নাজুক আস্তরণ রয়েছে। এটি অসংখ্য ক্ষুদ্র রক্তনালীতে পূর্ণ। এই টিস্যুগুলোর সুস্থ অবস্থা বজায় রাখার জন্য সঠিক আর্দ্রতার মাত্রা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত পানি ছাড়া এই আস্তরণটি শুকিয়ে যায়। এটি পাতলা হয়ে যায়। এতে জ্বালাভাব দেখা দেয়। আর সেই ছোট রক্তনালীগুলো? সেগুলো সহজেই ফেটে যায়। একটি হাঁচি, নাক ঝাড়া, এমনকী হালকা ঘষাও এর কারণ হতে পারে।
কখন ডিহাইড্রেশন হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি?
* গরমের মাসগুলো
* দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক কার্যকলাপ
* জ্বর, বমি বা ডায়রিয়া
* পর্যাপ্ত পানি পান না করা
* এয়ার কন্ডিশনিং এবং ঘরের ভেতরের হিটিং, যা চারপাশের বাতাসকে শুষ্ক করে তোলে।
স্ট্যাটপার্লস-এর একটি গবেষণা অনুসারে, যখন তরল গ্রহণের চেয়ে তরল ক্ষয় বেশি হয়, তখন এই অবস্থাটি ঘটে। এর লক্ষণগুলো হালকা তৃষ্ণা থেকে শুরু করে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা পর্যন্ত হতে পারে। ডিহাইড্রেশন এবং এর জটিলতা প্রতিরোধে সাহায্য করার জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কীভাবে এটি প্রতিরোধ করতে পারেন?
* সারাদিন ধরে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা, বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় বা অসুস্থ থাকাকালীন
* নাক আর্দ্র রাখতে স্যালাইন ন্যাসাল স্প্রে ব্যবহার করা
* নাকের ছিদ্রের ভেতরে সামান্য পেট্রোলিয়াম জেলি লাগানো
* শুষ্কতা কমাতে ঘরের ভেতরে একটি হিউমিডিফায়ার চালানো।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
বেশিরভাগ নাক দিয়ে রক্তপাত দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এই সমস্যাগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে-
* ২০ মিনিট চাপ দেওয়ার পরেও রক্তপাত বন্ধ না হলে
* কোনো গুরুতর আঘাতের পরে ঘটলে
* রক্তপাত অস্বাভাবিকভাবে বেশি হলে
* কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এটি নিয়মিত ফিরে আসতে থাকলে।