পিএইচডি–সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে চাকরিচ্যুত গোবিপ্রবির শিক্ষক

পিএইচডি–সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে চাকরিচ্যুত গোবিপ্রবির শিক্ষক

ফাতেমা খাতুন

পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত অনিয়ম, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ফাতেমা খাতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের (সাদা দল) একাংশের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চলতি বছরের এপ্রিলে পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি সত্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস আদেশে বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফেলোশিপ ট্রাস্ট তার পিএইচডি স্কলারশিপ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলে। শিক্ষা ছুটি শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলেও তিনি পিএইচডি সনদ অর্জনের তারিখ, ডিফেন্স-সংক্রান্ত সুপারভাইজারের প্রত্যয়নপত্র এবং ফেলোশিপ ট্রাস্টের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেননি।

অফিস আদেশে আরো উল্লেখ করা হয়, এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিকবার লিখিতভাবে যোগাযোগ করলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের সত্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়।

গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় সত্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন এবং শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় রিজেন্ট বোর্ডের সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে মত দেন যে, সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনসহ নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগে তিনি সন্দেহাতীতভাবে অভিযুক্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামুজ্জামান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়, ৪৩ তম রিজেন্ট বোর্ড সভার ৪৩/৬ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফাতেমা খাতুনকে ২৩ জুন ২০২৬ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদ থেকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

একই সিদ্ধান্তে, বিধি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে অর্থ তিনি পেয়েছিলেন তা বিশ্ববিদ্যালয়কে ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।