পাকিস্তানের সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা

পাকিস্তানের সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা

সংগৃহীত

পাকিস্তানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য বেলুচিস্তানে সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় হামলা চালিয়েছে আফগান সেনাবাহিনী। এতে কেউ নিহত না হলেও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন জানা গেছে।

এদিকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী হামলার সত্যতা স্বীকার করে বিবিসিকে জানিয়েছে, আফগান সেনাবাহিনীর নিক্ষিপ্ত ৪টি সামরিক ড্রোন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ভূপাতিত করেছে। যদি আফগানিস্তান ফের হামলা করে, তাহলে কঠোরভাবে তার জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্কবার্তাও দিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।

গত ২৮ জুন রোববার আফগানিস্তানে বিমান অভিযান পরিচালনা করেছিল পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের রোববারের বিমান অভিযানে কমপক্ষে ২৮ জন নিহত হয়েছিলেন এবং নিহতরা সবাই বেসামরিক ছিলেন।

আর আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের রোববারের বিমান অভিযানে আফগানিস্তানে নিহত হয়েছেন ৩৬ জন এবং আহত হয়েছেন ১৬০ জন। পাকিস্তানের এই বিমান অভিযানকে ‘কাপুরুষোচিত’ এবং ‘নৃশংস’ বলেও নিন্দা জানিয়েছে তালেবান সরকার।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, রোববার রাতে আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা এবং কুনার প্রদেশে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন আস্তানা লক্ষ্য বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল; সেই অভিযানে ২৯ জন নিহত হয়েছে এবং নিহতরা সবাই পাকিস্তানের নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপির সদস্য ছিল। সরকারিভাবে এই গোষ্ঠীকে ‘ফিৎনা আল খারিজি’ বলা হয় পাকিস্তানে।

রোববারের সেই অভিযানের জবাব দিতেই গতকাল মঙ্গলবার রাতে বেলুচিস্তানের সীমান্তে আফগান সেনাবাহিনী হামলা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ভাষা, ধর্ম, সাংস্কৃতিক সাদৃশ্যতার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার দুই প্রতিবেশী পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে একসময় মিত্রতা থাকলেও টিটিপিকে ঘিরে গত প্রায় ৫ বছরে চরম তিক্ততায় পৌঁছেছে দু’দেশের সম্পর্ক, বিশেষ করে ২০২১ সালে তালেবানগোষ্ঠী আফগানিস্তান দখল করার পর থেকে। ইসলামাবাদের অভিযোগ—পাকিস্তানের ভেতরে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য টিটিপিকে সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার; তবে তালেবান সরকার সবসময়েই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

গত কয়েক বছরে এ ইস্যুতে দুই দেশের কর্মকর্তা ও মন্ত্রী পর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে; কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা এবং কয়েকজন সেনাকে জীবিত অবস্থায় অপহরণ করে নিয়ে যায় আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী।

এ ঘটনার পরপরই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা করে পাকিস্তান। পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ ঘোষণা করেন, হামলার জবাব দিতে অপহৃত সেনাদের উদ্ধারে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।

রোববারের হামলার পর আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর পরিচালিত অভিযান অপারেশন গজব-লিল হকের অংশ।

সূত্র : বিবিসি