কুড়িগ্রামে তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ জনজীবন
প্রতিকি ছবি
কুড়িগ্রামে গত তিনদিন ধরে মৃদু তাপপ্রবাহ বইছে। দিনভর সূর্যের প্রখর রোদ ও প্রচন্ড গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। রাতেও প্রচন্ড গরম অনুভূত হচ্ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুতের লোড শেডিং।
ফলে গরমে শিশু, বৃদ্ধসহ মানুষজন পড়েছেন চরম বিপাকে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষগুলো প্রচন্ড রোদ ও গরমে কাজে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে এসব পরিবারে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
প্রতিদিন গরমের কারনে মানুষজন অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ডায়রিয়া, জ্বর ও হিটস্ট্রোকসহ অন্যান্য নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ভতি হচ্ছেন।
গত দুদিন ধরে প্রখর রোদে রাস্তা ঘাট ফাঁকা ও খাঁ-খাঁ করছে। ঘর থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না অনেকেই।
কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার খলিলগঞ্জ এলাকার রিক্সা চালক নেছার উদ্দিন জানান, হামরা গরিম মানুষ। কোনরকম অন্যের এসকা হাওলাত করি চালাই।
যে গরম পড়চে বাচার বুদ্ধি নাই। এত গরম হইলেও প্যাটের দায়ে চালায় নাগে।
অপরদিকে, ধরলা নদী পাড়ের কৃষক মইনুল ইসলাম জানান,এত গরম ও রোদে কাজ করতে মন না চাইলেও যেতে হয়। এখন আমন বীজতলা ঠিক করতে হচ্ছে। কদিন বাদে আমন লাগাতে হবে।
অসহ্য গরমে বাইরে কষ্ট হলেও কাজ করতে হয়।
এদিকে, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসমূহে প্রতিদিনই গরমের কারনে বাড়ছে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ডায়রিয়া, জ্বর, হিটস্ট্রোক, আমাশয়সহ অনেক রোগে শিশু, বৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষ হাসপাতালে ভতি হয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন বলে হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়।
জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: নুরে নেয়াজ জানান, এখন অতিরিক্ত গরমের প্রভাব কুড়িগ্রামে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে প্রচন্ড গরমে অনেকেই অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। আমরা প্রয়োজনীয় পরামশ প্রদান করছি।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, গত তিনদিন ধরে জেলায় তাপমাত্রা মারাত্নকভাবে বেড়েছে। গত শনিবার এ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা আজ সামান্য কমেছে। তবে আরো দুএকদিন তাপমাত্রা এরকম বাড়তিতে থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।