গাইবান্ধায় নদীর পানি বৃদ্ধি, ভাঙন অব্যাহত
সংগৃহীত ছবি
গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে কমেছে করতোয়া ও তিস্তা নদীর পানি। এসব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি বা হ্রাস পেলেও তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
রবিবার (৫ জুলাই) গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সন্ধ্যা ৬ টার তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৭ সেমি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১০২ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঘাঘট নদের পানি ৬ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৫৯ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে তিস্তা নদীর পানি ১০ সেমি হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৭৫ সেমি ও করতোয়া নদীর পানি ৪৩ সেমি হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৩১০ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চলমান এই বন্যার মৌসুমে এখন পর্যন্ত গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
এদিকে মাসখানে ধরে জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। আর এই পানি ওঠা-নামার সঙ্গে নদী তীরবর্তী ২৫টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতমধ্যে প্রায় ২০০ বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে আরও শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সারিয়ে নিচ্ছেন।
জেলা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদীর তীরবর্তীসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ফলসি ও বসতবাড়ি ভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গাইবান্ধার সদর উপজেলার কামারজানি, শহর রক্ষাবাঁধ, ফুলছড়ির বালাসী ফেরিঘাট, সাঘাটা উপজেলার শহরসহ বেশ কিছু সরকারি বেসরকারি স্থাপনা হুমকির মধ্য রয়েছে। ভাঙন রোধে আসন্ন বন্যার আগেই ব্যবস্থা না নিলে জেলার বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, গাইবান্ধার প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানি হ্রাস-বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন জায়গায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।