দশ বছর ধরে ঝুঁকিতে ঝালকাঠির বাসন্ডা বেইলি সেতু

দশ বছর ধরে ঝুঁকিতে ঝালকাঠির বাসন্ডা বেইলি সেতু

সংগৃহীত ছবি

 

ঝালকাঠির বাসন্ডা নদীর ওপর নির্মিত বেইলি সেতুটি প্রায় এক দশক আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও এখনো নির্মাণ হয়নি নতুন সেতু। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা অংশে প্লেট ঢালাই ও জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করে যান চলাচল সচল রাখা হলেও প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি পারাপার করছেন হাজারো মানুষ।

বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা বেইলি সেতুটি দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটলে কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে না।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালে নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৯৪ ফুট এবং প্রস্থ ২৫ ফুট। প্রতিদিন এ সেতু দিয়ে প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ ভারী যানবাহনসহ অসংখ্য হালকা যানবাহন চলাচল করে। অতিরিক্ত ভারী যানবাহনের চাপে সেতুর স্টিলের পাটাতন ফেটে যাওয়া, নাট-বল্টু খুলে যাওয়া এবং বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। ফলে বারবার মেরামত করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুটি আবারও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ কারণে ২০১৬ সালে সওজ সেতুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে।

বর্তমানে সেতুর বিভিন্ন স্থানে নতুন ও খণ্ডিত স্টিল প্লেট ঢালাই করে কোনোভাবে চলাচলের উপযোগী রাখা হয়েছে। তবে হালকা যানবাহন উঠলেই সেতুটি দুলতে শুরু করে। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় বিকট শব্দে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খুলনা-বরিশাল রুটের বাসচালক মো. খলিল হাওলাদার বলেন, দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই প্রতিদিন যাত্রী পরিবহন করতে হয়। জোড়াতালিতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় না করে দ্রুত একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা উচিত।

রাজাপুর উপজেলার অ্যাম্বুলেন্সচালক বেল্লাল মোল্লা বলেন, বাসন্ডা সেতু পার হওয়ার সময় সব সময় ভয় কাজ করে। সেতুটি এতটাই দুলতে থাকে যে মনে হয় যেকোনো সময় ভেঙে পড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুব হোসেন বলেন, গাড়ি চলাচলের সময় সেতুতে প্রচণ্ড শব্দ হয় এবং পুরো কাঠামো কেঁপে ওঠে। এটি ভেঙে গেলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তাই দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঝালকাঠির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান বলেন, সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নতুন সেতু নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ ও স্থাপনার ক্ষতিপূরণের বিষয় চূড়ান্ত করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) অন্তর্ভুক্ত করা হলে নতুন সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।