মেসির বয়স ১৯ নাকি ২৩?

মেসির বয়স ১৯ নাকি ২৩?

ছবি: ফাইল ফটো

সমসাময়িক অনেক ফুটবলার যখন অবসর নিয়েছেন, কেউ বা ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে দিন গুনছেন, তখন লিওনেল মেসি যেন বিশ্বকাপের মঞ্চে লিখে চলেছেন নতুন এক মহাকাব্য। বয়সের হিসাবকে যেন বারবার ভুল প্রমাণ করে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এখনও ছুটে চলেছেন আগের মতোই, গোল করছেন, করাচ্ছেন এবং ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিচ্ছেন।

মেসির এই অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা ও ফিটনেস দেখে বিস্মিত স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও। বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে আর্জেন্টাইন মহাতারকার প্রশংসায় পঞ্চমুখ তিনি।

দে লা ফুয়েন্তে বলেন, 'মেসিকে দেখে মনে হয় তার বয়স ১৯ কিংবা ২৩ বছর। সে যে মানের ফুটবল খেলছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এটা শুধু তার অভিজ্ঞতা বা পরিপক্বতার কারণে নয়, বরং ফুটবলের প্রতি তার অসাধারণ নিবেদনের ফল। সে কখনো তৃপ্ত হয় না, প্রতিদিন আরও ভালো হওয়ার চেষ্টা করে। সতীর্থদের জন্য, ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এবং যারা নতুন করে ফুটবল খেলতে শুরু করছে, সবার কাছেই সে এক অনন্য উদাহরণ।'

চলতি বিশ্বকাপে মেসির পারফরম্যান্সও সেই প্রশংসার যথার্থতা প্রমাণ করছে। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত ৮ গোল করে শীর্ষে রয়েছেন তিনি। সমান ৮ গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপেও, তবে ফরাসি ফরোয়ার্ড মেসির চেয়ে একটি ম্যাচ বেশি খেলেছেন।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের মূল ভরসাও হয়ে উঠেছেন মেসি। গোল করার পাশাপাশি আক্রমণ গড়ে তোলা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে পথ দেখানোর দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেরই বিশ্বাস, এই ছন্দ ধরে রাখতে পারলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় গোল্ডেন বল জিতলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

চলতি বিশ্বকাপে স্পেন ও আর্জেন্টিনা রয়েছে ড্রয়ের দুই ভিন্ন প্রান্তে। ফলে দুই দলের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কেবল ফাইনালে। সেই লক্ষ্য পূরণে অবশ্য দুদলকেই পাড়ি দিতে হবে কঠিন পথ। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে স্পেন। সেই বাধা টপকাতে পারলে সেমিফাইনালে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ফ্রান্স। ২০১০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে স্প্যানিশদের সামনে তাই অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা।